শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভ্যান চাকল ও মাহেন্দ্র গড়ি চালকের মাধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে মাহেন্দ্র চালক মানিক ও হিরা এবং ভ্যান চালকের পক্ষে আল আমিন চৌকিদার আহত হয়। মানিক ও হিরা জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং আল আমিন চৌকিদার শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষ পুরনো শত্রুতা উদ্ধারে হাতবোমা ফাটিয়ে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে চিকন্দী ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় কোন হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায় নি। পালং মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে এ বিষয়ে তারা আবগত আছে তবে ভিকটিমের পক্ষে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯ জানুয়ারী শনিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে শৌলাপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর চৌকিদার কান্দি এলাকায় ইট ভাটায় মাটি বহনকারী মাহেন্দ্র গাড়ির চালক মানিক ও স্থানীয় ভ্যান চালক রানা আকনের মধ্যে রাস্তায় সাইড দেয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। এতে মাহেন্দ্র চালক মানিক, হিরা ও আল আমিন আহত হয়। স্থানীয়রা মানিক ও হিরাকে জাজিরা হাসপাতালে ও আল আমিনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনা পরবর্তী এলাকা প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পরে। এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষ হয়ে স্থাানীয় রাজ্জাক খলিফার নেতৃত্বে বাঘা ও সরদার পরিবার মিলে চৌকিদার কান্দি এসে ককটেল বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্ঠি করে। সংবাদ পেয়ে চিকন্দী ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী জাহাঙ্গীর হাওলাদারের স্ত্রী মনোরা বেগম বলেন, রাজ্জাক খলিফা ব্যাগভর্তি বোমাসহ লোকজন নিয়া আসে। চৌকিদার কান্দিতে অনেক বোমা ফাটায়। আমার পায়ের কাছেও একটা বোমা ফাটে। আমি ভয়ে দ্রুত ঘরে ঢুকে যাই।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে আল আমিন জানায়, আমি জমিতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। তখন দেখি মানিক, হিরা ও রানার মধ্যে হাতাহাতি হচ্ছে। আমি ঘটনা থামানোর চেষ্টা করি। তখন আমার মাথায় বাড়ি লাগে। এরপর কি হয়েছে আমি বলতে পারছি না। তবে এটা কোন রাজনৈতিক মারামারি ছিল না। আমরা সকলেই নৌকার পক্ষে নির্বাচন করেছি।
স্থানীয় মেম্বার হারুন মোল্যা বলেন, ভ্যান চালক ও মাহেন্দ্র চালকের মধ্যে মারামারি হয়েছে। ঘটনার ২০ মিনিট পরে রাজ্জাক খলিফা তৃতীয় পক্ষ হয়ে সরদার ও বাঘা বাড়ির লোকজন নিয়ে এসে চৌকিদার কান্দি আক্রমণ করে। এটা পূরানো শত্রুতা উদ্ধারে অপচেষ্টা মাত্র। তবে আমরা তৃতীয় পক্ষের উপর পাল্টা হামলা করতে পারতাম। আমাদের অভিভাবক ইকবাল হোসেন অপু এমপি’র নির্দেশণা আছে আমারা কারো হামলার শিকার হলেও পাল্টা হামলা করতে পারবো না। এমন কোন ঘটনা ঘটলে বিষয়টি নেতায় দেখবে।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, শৌলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর চৌকিদার কান্দি গ্রামে মারামারির ঘটনায় আল আমিন নামে একজন আহত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। ভিকটিমের পক্ষে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে মামলা নেয়া হবে। তবে ককটেল সম্পর্কে আমার জানা নাই।
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন