শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ ইং, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ ইং

ভেদরগঞ্জের সখিপুরে মোল্যাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ প্রভাবশালী লাকুরিয়াদের বিরুদ্ধে

ভেদরগঞ্জের সখিপুরে মোল্যাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ প্রভাবশালী লাকুরিয়াদের বিরুদ্ধে

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার ডিএমখালি ইউনিয়নের চরপাইয়াতলী গ্রামের মোল্যা বংশের পৈত্রিক সম্পত্তি প্রভাবশালী লাকুরিয়া বংশের লোকজন জোরপূর্বক জবর দখল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন যাবত লাকুরিয়াদের ভয়ে মোল্যারা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ দখলে যেতে পারছেনা। জোর জবরদস্তি করে দীর্ঘদিন মোল্যাদের পৈত্রিক ভূমি ভোগ দখল করে আসলেও লাকুরিয়াদের পেশি শক্তির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে মোল্যারা। লাকুরিয়ারা লাঠিয়াল গুন্ডাবাহিনী দিয়ে চর দখলের মতো মোল্যাদের জমি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ নিয়ে একাধিক মামলা করে আদালতের রায় পাওয়ার পরেও মোল্যারা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ দখলে যেতে পারছেনা। জমির কাছে গেলেই লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে মোল্যাদের ওপর আক্রমন করে তাদের জমি থেকে উৎখাত করা হয়। এমনকি তাদের জীবন নাশের হুমকিও দেওয়া হয়। জীবন নাশের আংশকায় মোল্যারা এখন তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে। কিছুদিন পূর্বে মোল্যারা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে একটি ঘর উত্তোলন করলে প্রভাবশালী লাকুরিয়ারা তাদের লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে সেই ঘর ভেঙ্গে নিয়ে যায়। পরে সেখানে লাকুয়িারা ঘর উত্তোলন করে। এমনকি মোল্যাদের জমির ধান, পাট সহ বিভিন্ন ফসল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে লাকুরিয়ারা। এ নিয়ে আদালতে মামলাও করেছে মোল্যা পরিবার। কিন্তু মামলা মোকদ্দমা কিছুকেই তোয়াক্কা করছেন না প্রভাবশালী লাকুরিয়া পরিবার। তারা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোল্যাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি জমির আশপাশে গেলেই খুন জখমের হুমকি দিচ্ছে বলে মোল্যাদের অভিযোগ।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, সখিপুর থানার ৭৪ নং চরপাইয়াতলী মৌজার বিভিন্ন দাগে প্রায় ১৪ একর জমি রয়েছে। পৈত্রিক সুত্রে ওই জমির মালিক এলাকার বাবুল মোল্যা ও কালিমদ্দিন মোল্যা সহ তাদের ওয়ারিশগণ। এলাকার প্রভাবশালী শিরাজ লাকুরিয়া, ইসমাইল লাকুরিয়া ও মানিক লাকুরিয়া সহ লাকুরিয়া বংশের আরও কিছু লোকজন ওই সম্পত্তি জোর জবরদস্তি ভাবে দীর্ঘদিন যাবত ভোগ দখল করছেন বলে মোল্যা পরিবারের অভিযোগ। কিন্তু লাকুরিয়াদের দাবি, তারা ওই ১৪ একর সম্পত্তি অনেক আগেই মোল্যাদের কাছ থেকে ক্রয় করে নিয়েছেন। তাদের কাছে দলিলপত্র এবং তাদের নামে জমি রেকর্ডও হয়েছে বলে লাকুরিয়ারা দাবি করেন। কিন্তু মোল্যারা দাবি করেন, লাকুরিয়ারা মোল্যাদের জমি কার কাছ থেকে কিনেছে, কতটুকু কিনেছে সেটা দেখতে চাইলেও লাকুরিয়ারা তা দেখাতে রাজি নয়। মোল্যাদের অভিযোগ, মূলত লাকুরিয়া বংশের লোকজন প্রভাব ও শক্তি খাটিয়ে এবং হুমকি ধমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মোল্যাদের ভূমি দখলে রাখতে চায়। তারা সালিশ দরবার, আইন আদালত কিছুই মানতে চায়না।
এ বিষয়ে বাবুল মোল্যা বলেন, আমরা দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ। ছোট বেলায় জীবিকার তাগিদে আমরা একেক জন একেক জায়গায় ছিলাম। তখন আমাদের পৈত্রিক জায়গা সম্পত্তি দেখাশোনা করার কোন লোকজন ছিলোনা। এই সুযোগে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি চর দখলের মতো লাকুরিয়ারা দখল করে নিয়েছে। পরে এ নিয়ে আমরা যখন আদালতে মামলা করেছি, তখন আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। রায় পাওয়ার পরেও তারা আমাদের জমিতে যেতে দিচ্ছেনা। আমরা দূর্বল বিধায় তারা জোর জুলুম করে আমাদের সম্পত্তি জবর দখল করে খাইতেছে। তারা বলে, তারা নাকি অনেক আগে মোল্যাদের কাছ থেকে জমি কিনেছে। কিন্তু জমির দলিল দেখাতে বললে তারা দলিল দেখায় না। কিছুদিন আগে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণ করলে লাকুরিয়ারা তাদের ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে আমাদের ঘর ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। এরপর তারা সেখানে ঘর নির্মাণ করেছে। ওই ঘরের আশপাশে গেলে তারা আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমাদের জমির ধানও কেটে নিয়ে গেছে তারা। এ নিয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি। তাদের ভয়ে আমরা এখন আমাদের সম্পত্তিতে যেতে পারছিনা। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
স্থানীয় নাসির উদ্দিন মোল্যা বলেন, মোল্যারা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে ঘর নির্মান করেছিলেন। কিন্তু লাকুরিয়ারা দেড় থেকে দুইশ লোক ভাড়া করে এনে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মোল্যাদের ঘর ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। পরে লাকুরিয়ারা সেখানে ঘর নির্মাণ করেছেন। ঘর নির্মাণ করে লাকুরিয়ারা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে প্রতিদিন ঘর পাহাড়া দিচ্ছে। ঘরের কাছে মোল্যারা গেলেই তাদের ওপর আক্রমন করছে। এছাড়া লাকুরিয়াদের ভয়ে মোল্যারা তাদের ফসলি জমিতেও যেতে পারছেনা। লাকুরিয়াদের শক্তির কাছে মোল্যারা অসহায়।
কালিমদ্দিন মোল্যা বলেন, আমাদের পৈত্রিক জায়গা জমিতে গেলে লাকুরিয়ারা আমাদের খুন করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। তাদের বংশের একজন ঢাকা জজকোর্টে আইনজীবী পেশায় আছেন। সে তাদের লোকজনকে হুকুম দিয়েছে আমাদের দু’একজনকে খুন করতে। তারপর যা বোঝার সে বুঝবে বলেছে। তাই আদালতের রায়ের পরেও আমরা জীবনের ভয়ে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলে যেতে পারছিনা। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে ইসমাইল লাকুরিয়ার ছেলে নূর মোহাম্মদ ফয়েজ লাকুরিয়া বলেন, আমরা অনেক আগে মোল্যাদের কাছ থেকে ১৪ একর জমি ক্রয় করেছি। সেই দলিলপত্র আমাদের কাছে আছে এবং আমাদের নামে রেকর্ডও হয়েছে। এ নিয়ে মোল্যারা আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই রায়ের কপি আমাদের কাছে আছে। আমরা কারো সম্পত্তি জোর করে দখল করছিনা। সুতরাং মোল্যাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।


error: Content is protected !!