শরীয়তপুরে সালিশির কথা বলে ডেকে নিয়ে পুরো পরিবারকে মারধরের অভিযোগ উঠে এক পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নে রানীশার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার সন্ধায় রানীশার এলাকার আনিস দারাগোর সাথে তার আপন চাচাীর পারিবারিক কলহের সালিশের কথা বলে ডেকে নেয় একই এলাকার পুলিশ কনস্টবল মিরাজ দারাগো এ ঘটনা ঘটায়।
অভিযোগ ও মামলা সুত্রে জানাযায়, মিরাজ দারাগোর ভাই অভিযুক্ত রেজাউল দারাগো বিভিন্ন সময় আনিস দারাগোর মেয়ে আফসানাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসতো, তার কথায় রাজি না হলে, বিভিন্ন সময় তারা ওই পরিবারকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। তাদের অত্যাচারে আফসানা গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। আনিস দারাগোর পরিবারের ঝগড়ার সুত্রে ধরে তার পরিবারের ওপর এ হামলা চালায় পুলিশ কনস্টবল মিরাজ দারোগার পরিবার। এতে মোট ৫ জন আহত হয়, গুরুত্বর আহত হয় আনিস দারাগোর বড় ছেলে আসিফ দারাগো, বড় মেয়ে ৬ মাসের গর্ভবতী আছিয়া বেগম। তাদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল থেকে এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের জ্ঞান ফেরেনি তাদের দু’জনের। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য মিরাজ দারোগাকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে শরীয়তপুর বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী আফসানা আক্তার।
রেজাউল দারোগা ইউনিয়ন স্থাস্থ্য সহকারী ও মিরাজ পুলিশে চাকরি করায় তারা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ কোন কথা বলে না, বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। ভুক্তভোগী পরিবার হামলার আইনগত ন্যায় ও সঠিক বিচার দাবি করছে।
ভুক্তভোগী আফসানা জানান, রেজাউল দারোগা দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুস্তাব দিয়ে আসছিলো। তার কথায় রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাকে হয়রানি করে আসছিলো। তার অত্যাচারে তিনি গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। তাদের পারিবারিক দ্বন্দ মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলে তার ও তার পরিবারের ওপর হামলা চালায় রেজাউল ও তার ভাই পুলিশ কনস্টবল মিরাজসহ তার পরিবার।
এঘটনায় অভিযুক্ত মিরাজ দারোগা ফোনে জানান ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না, তবে আমার ভাই রেজাউল সালিশ ডেকেছিলো। কি হয়েছে তা আমি জানি না।
গোসাইরহাট থানার এস আই সজিবুল ইসলাম জানান,, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তদন্ত করেছে, পুলিশের সদস্য মিরাজের মারধরের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন