শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় জয়নাল মুন্সী (৩৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে এক প্রতিবন্ধী তরুণীকে (২৯) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ৫ আগষ্ট ওই তরুনীর ভাই বাদী হয়ে জয়নাল মুন্সীর নামে নড়িয়া থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। জয়নাল মুন্সী নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের ধুলিরচর গ্রামের জব্বার মুন্সীর ছেলে।
এদিকে মামলা দায়েরের আট দিন পার হলেও আসামী জয়নাল মুন্সীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে আসামী জয়নাল মুন্সী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা ভিন্ন খাতে নিতে কিছু পাতিনেতাদের দিয়ে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশংকায় আছে ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী তরুণীর পরিবার।
মামলা ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী ওই তরুণীর বাড়ি নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের পুনাই সরদার কান্দী গ্রামে। তারা দুই ভাই দুই বোন। প্রতিবন্ধী ওই তরুনীর ছোট এক ভাইও প্রতিবন্ধী। আরেক বোনের বিয়ে হয়ে গেলে সে শ্বশুড় বাড়ি চলে যায়। তার বাবা মারা গেলে মা বিদেশ চলে যায়। মা-ও তাদের তেমন খোঁজ নিতেন না। চাচাদের সহায়তায় ছোট দুই ভাইয়ের সাথে বাড়িতেই থাকতেন ওই তরুণী।
ভিকটিমের বাড়ির পাশে আসামী জয়নাল মুন্সীর শ্বশুড় বাড়ি। এ সুযোগে জয়নাল মুন্সী প্রায় সময় শ্বশুড় বাড়ি গিয়ে প্রতিবন্ধী ওই তরুণীর সাথে গল্পগুজব করে এবং সখ্যতা গড়ে তোলে। এরপর বিয়ের প্রলোভন দিয়ে সুযোগ বুঝে ওই তরুনীকে কয়েকবার ধর্ষণ করে জয়নাল। ধর্ষণের ঘটনা কাউকে বলতে নিষেধ করা হয়। এ ঘটনা কাউকে বললে ওই তরুণীকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় জয়নাল। গত ৪ আগস্ট রাত ১ টার দিকে কৌশলে ঘরে ঢুকে ওই তরুণীকে আবারও ধর্ষণ করে জয়নাল। ঘটনা দেখতে পেয়ে ওই তরুণীর ভাই জয়নালকে ঝাপটে ধরে ডাক চিৎকার দেয়। আশপাশের লোকজনকে এগিয়ে আসতে দেখে জয়নাল ঝাটকা মেরে ছুটে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পরের দিন ওই তরুণীর ভাই বাদী হয়ে জয়নালকে আসামী করে নড়িয়া থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে।
ভিকটিমের চাচা রশিদ ছৈয়াল বলেন, মামলার আট দিন পার হলেও এখনও আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আমরা জানতে পারছি আসামী জয়নাল ছৈয়াল প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং রাতে বাড়িতেই ঘুমাচ্ছে। কিন্তু আমরা আসামী গ্রেফতারে পুলিশের কোন চেষ্টা দেখছিনা। ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে আমরা আশংকায় আছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়িয়া থানার এসআই আবিদ হোসেন খান বলেন, মামলার তদন্ত ও আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কেউ আসামীর সন্ধান দিতে পারলেই সাথে সাথে গিয়ে আসামীকে গ্রেফতার করা হবে। আসামী গ্রেফতারে চেষ্টা করছি না এমন অভিযোগ সঠিক নয়।
এ ব্যাপারে জানার জন্য নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ফোনে কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

মন্তব্য করুন