শরীতপুর সদর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯ মার্চ সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সদর উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহাবুর রহমান শেখের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম তপাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ তালুকদার, সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সামিনা ইয়াসমিন, শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার শরীয়তপুর প্রতিনিধি শেখ খলিলুর রহমান।
এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, এলইজিডি কর্মকর্তা, পিআইও, সদরে কর্মরত সকল দপ্তরের কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রক্ষার্থে নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। ফল-মূল, মাছ, মাংস, দুধ ও শাকসবজি ফরমালিন, রাইপেন, এলপেনসহ জনস্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রণ করা হয় যা মানুষের জীবনের প্রতি হুমকি স্বরূপ। ভোক্তা অধিকার ও খাবারের মান নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। কোন ইউনিয়নে যাতে বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠিত হতে না পারে সেজন্য প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে বিভিন্ন সভা সমাবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। ইতিমধ্যে শরীয়তপুর সদর উপজেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সন্ধার পর যে সকল স্থানে বখাটে ছেলেরা আড্ডা দেয় সে সকল স্থানে পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে মাদকের প্রভাব অনেকটাই কমে আসবে।
বিশেষ অতিথি পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, মাদক বন্ধে সকলকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক বন্ধে প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ডিসেম্বর ২০১৯ সালে ১২টি, জানুয়ারি ২০১৯ সালে ১৪টি। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ১১টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সদর থানায়। এর মধ্যে চুরি একটি, ধর্ষণ একটি, মাদকদ্রব্য ৬টি ও অন্যান্য ৩টি অপরাধ সংঘটিত হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, জঙ্গিবাদ ও জঙ্গিতৎপরতা যাতে না হয় সেই দিকে সকলকে নজর থাকতে হবে। কোন সন্তান জঙ্গি ও সন্ত্রাস হতে না পারে সেজন্য প্রত্যেক বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে। জঙ্গিবাদ ও জঙ্গিতৎপরতা প্রতিরোধে মসজিদ খুৎবার সময় সংশ্লিষ্ট ইমামগণ কমপক্ষে ৫ মিনিট এবং বিভিন্ন সময় ও ওয়াজ মাহফিলে জঙ্গি তৎপরতা প্রতিরোধ সম্পর্কে কমপক্ষে ১৫ মিনিট বক্তব্য রাখতে হবে।

Facebook Comments Box