সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় চলমান আন্দোলন আজ সোমবার সহিংস রূপ নিয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা থানা, উপজেলা পরিষদ, হাইওয়ে থানা ও পৌরসভাসহ চারটি সরকারি দপ্তরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেয়।

বেলা ১১টা ৩০ মিনিট থেকে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয়। দুপুর ১টার দিকে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আরও কয়েক হাজার মানুষ মিছিলে যোগ দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আন্দোলনকারীরা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মসজিদে আশ্রয় নেন। বিক্ষুব্ধ জনতার ইটপাটকেলে বেশ কিছু পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত হন। পরে মাদ্রাসা ও মসজিদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করেন।

মসজিদ থেকে বের হয়ে বিক্ষুব্ধরা ভাঙ্গা থানা ভবনে হামলা চালায় এবং সেখানে থাকা একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর করে। এরপর তারা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সময় হাইওয়ে অফিস ও পৌরসভা কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই সহিংসতায় মাইটিভির ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি সরোয়ার হোসেন আহত হয়েছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা জানান, তারা বিক্ষুব্ধদের শান্ত করার চেষ্টা করছেন এবং দ্রুত প্রতিবেদন তৈরি করে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। তিনি আশা করেন, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেটে ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়। গত শনিবার এই আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ম. ম. সিদ্দিক মিয়াকে আটক করে ডিবি পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অভিযোগে ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

Facebook Comments Box