বিশ্বজুড়ে খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক মানবস্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক কৃষি ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রোগব্যয় বছরে ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের মতোই বড় হুমকি।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট এবং সিস্টেমিক নামের একটি সংস্থার গবেষকদের নেতৃত্বাধীন দলটি গতকাল তাদের গবেষণার তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাসায়নিক দূষণের কারণে শুধু রোগ বাড়ছে না, পাশাপাশি ২১ শতকে বিশ্বব্যাপী শিশু জন্মহার ব্যাপকভাবে কমবে।
গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমান মাত্রায় এসব রাসায়নিকের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ২০২৫ থেকে ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বে ২০ থেকে ৭০ কোটি নব শিশুর জন্ম কমে যাবে। প্রধানত হরমোনজনিত সমস্যার মাধ্যমে রাসায়নিক দ্রব্যগুলো বিশেষত বন্ধ্যত্ব সৃষ্টিতে প্রভাব রাখছে। এছাড়াও ক্যানসার, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ক্ষতি হওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে চারটি প্রধান রাসায়নিককে চিহ্নিত করা হয়েছে: ফথালেটস (খাদ্য প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত), বিশফেনলস (প্লাস্টিক ও রেজিন তৈরির উপাদান), পেস্টিসাইডস (কীটনাশক) এবং পিফাস, যা ‘ফরেভার কেমিক্যালস’ নামে পরিচিত। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এসব রাসায়নিকের কারণে বিশ্বের খাদ্যদ্রব্য বিষে পরিণত হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বজুড়ে রাসায়নিক উৎপাদন প্রায় ২০০ গুণ বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে ৩.৫ লাখের বেশি সিন্থেটিক রাসায়নিক ব্যবহৃত হলেও, খুব অল্প সংখ্যক রাসায়নিকের ঝুঁকি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে।
বিশ্বখ্যাত শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ড. ফিলিপ ল্যানড্রিগান এ পরিস্থিতিকে ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “বিশ্বকে রাসায়নিক দূষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। শিশুদের বিকাশমান মস্তিষ্কে এসব রাসায়নিক ভয়াবহ ক্ষতি করে বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীলতা ও আজীবন উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়।” প্রতিবেদনটি আরও জানায়, কৃষিতে উৎপাদনহানি এবং পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও অতিরিক্ত ৬৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে।




মন্তব্য করুন