যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট অভিহিত করে এই অভিযানকে ‘বিদেশি আগ্রাসন’ ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে রদ্রিগেজ জানান, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের জরুরি বৈঠকের পর দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উক্ত বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সব রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের সমর্থনে একটি ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলা’ সংক্রান্ত ডিক্রি কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তিনি কারাকাসে মার্কিন অভিযানকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। মাদুরোর আহ্বানে সংহতি জানিয়ে তাঁর সমর্থকরা রাস্তায় নেমেছেন বলে ভাষণে জানানো হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ডেলসি রদ্রিগেজ দেশবাসীকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে সংলাপে আগ্রহী।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, কারাকাসে এক বিশেষ অভিযানে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পর দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে তীব্র উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

Facebook Comments Box