রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের চরম পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক মো. আব্দুর রহমান।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এনসিপির আহ্বায়কের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্রে তিনি দলটির সব সাংগঠনিক দায়িত্ব ও সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে এটি অবিলম্বে কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

পদত্যাগপত্রে আব্দুর রহমান উল্লেখ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় নাগরিক কমিটির হাত ধরে এনসিপি গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পেরে তিনি গর্বিত ছিলেন। একটি বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক চেতনা, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এবং ঘোষিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রতি আস্থা রেখেই এতদিন তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এসেছেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এই নেতা। তার অভিযোগ, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বাঁধার পর থেকে এনসিপির কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত জামায়াতপন্থি ভাবধারার প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আব্দুর রহমান বলেন, “শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল এই জোট কেবলই একটি কৌশলগত রাজনৈতিক সমঝোতা, যা আদর্শিক জোটে রূপ নেবে না। কিন্তু বাস্তবে আজ এনসিপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান পুরোপুরি একাকার হয়ে গেছে— যা আমার ব্যক্তিগত নীতি ও চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।”

সংগঠনে বাকস্বাধীনতার অভাবের কথা তুলে ধরে তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের ইতিহাস ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করায় তাকে দলের ভেতর ‘মুজিববাদী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এভাবে তার স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে।

রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং পরবর্তী শাসনব্যবস্থার রাজনৈতিক ইতিহাসকে আলাদাভাবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আব্দুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এনসিপির বর্তমান বক্তব্য ও অবস্থান মূলত জামায়াত-শিবিরের বক্তব্যেরই হুবহু প্রতিধ্বনি। এর ফলে একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি তার নিজস্ব স্বতন্ত্র আদর্শ ও সত্তা হারিয়ে ফেলেছে। এই আদর্শিক বিচ্যুতি ও জামায়াতপন্থি ধারার কারণে দলটির অনেক প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা-কর্মী ইতিমধ্যেই সংগঠন ছেড়ে চলে গেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এনসিপিতে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা নৈতিক ও আদর্শিকভাবে পুরোপুরি অসম্ভব হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তবে পদত্যাগপত্রের শেষাংশে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এনসিপি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।