শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রবাসে নেওয়ার প্রলোভনে প্রতারণার জের ধরে প্রবাসী শফিকুল বেপারির উপর হামলার ঘটনায় ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। মামলা তুলে নিতে আসামি পক্ষের লোকজন নিয়মিত হুমকিধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

সোমবার সরেজমিনে শফিকুল বেপারির বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলার ঘটনায় শফিকুল বেপারির বোন মাহফুজা বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার ছয়দিন পার হলেও এখনো প্রধান অভিযুক্ত রাতুল সরদারকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় দীর্ঘদিন আগে ভুক্তভোগীর বোনজামাই সোলাইমান চৌকিদারকে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে আইয়ুব আলি সরদার প্রতারণা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাড়িতে এসে শফিকুল দেখতে পান, অভিযুক্তরা তাদের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

এক পর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত রাতুল সরদার ছুরি দিয়ে শফিকুল বেপারির পেটে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলার বাদী মাহফুজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিদেশে নেওয়ার নামে প্রতারণার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই তাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ হতো। ঘটনার রাতে হঠাৎ করে রাতুল সরদার ও তার সহযোগীরা তাদের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে আসামি পক্ষ মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের বাড়িতে থাকতে না পেরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমার ভাই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা ন্যায়বিচার চাই। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার না করা হলে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাতুল সরদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মা জানান, রাতুল কোথায় আছেন তা তিনি জানেন না। ঘটনার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে একাধিক অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, প্রধান আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত গ্রেফতার ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।