পরিত্যক্ত গোবরকে কাজে লাগিয়ে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা সানজিদুল ইসলাম। তার গড়ে তোলা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থানীয় ৩০টি পরিবারের রান্নাঘরে সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে জ্বালানি গ্যাস। পরিবেশবান্ধব এই প্রকল্প থেকে গ্যাস ও জৈব সার বিক্রি করে মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি।
উপজেলার ডিএমখালী ইউনিয়নে নির্মিত এই প্ল্যান্টে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার কেজি গোবর প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বোতলজাত এলপিজি গ্যাসের চড়া দাম ও সরবরাহ সংকটের এই সময়ে সিলিন্ডার কেনার ঝক্কি ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পেয়ে দারুণ স্বস্তিতে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি প্ল্যান্টের অবশিষ্ট বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের জৈব সার।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের পেছনের গল্পের শুরু ২০১৮ সালে। এসএসসি পাসের পর ড্রাইভিং শিখতে বগুড়ায় গিয়ে প্রথমবারের মতো বায়োগ্যাস প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হন সানজিদুল। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই মামা ইয়াছিন মিয়ার গরুর খামারের পাশে প্রায় ১১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন এই প্ল্যান্ট।
একসময় যা কেবল বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত হতো, সঠিক পরিকল্পনায় তা আজ গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিকল্প জ্বালানির নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সানজিদুলের এমন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।



মন্তব্যসমূহ
রুদ্রবার্তা প্রতিবেদক
০৮ নভে ২০২৬Good
মন্তব্য করুন