ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে নতুন জোট সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নেসেট নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর লিকুদ ও তার মিত্ররা পেয়েছে ৫৩টি আসন, আর আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ব্লক পেয়েছে ৪৮টি আসন।
নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে দুটি আরব-নেতৃত্বাধীন জোট—ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্ট। তারা যৌথভাবে ১৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠনের সমীকরণে ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, পরামর্শক সভায় আইজেনকোটের পক্ষে ৬৭টি এবং নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬টি সুপারিশ জমা পড়েছিল। ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দলের নেতাকেই ডাকতে বাধ্য নন; বরং যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি, তাকেই মনোনীত করতে পারেন।
নতুন সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোট প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন, যা প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ‘এখন একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময়। আমরা যেন এই দায়িত্বের যোগ্য হয়ে উঠতে পারি, সে জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’
সরকার গঠনে তিনটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে: নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য সরকার, আইজেনকোটের ব্লক থেকে সদস্য ভেঙে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ডানপন্থী জোট, অথবা আরব দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন সরকার। ২০২০ সালে টানা তিনটি অচল নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ও বেনি গ্যান্টজ ক্ষমতা-ভাগাভাগির চুক্তি করেছিলেন; ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত রাজনৈতিক সংকটে ইসরায়েলকে পাঁচটি নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।



মন্তব্য করুন