ধার দেওয়া ১০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক কৃষকের প্রায় পাঁচ হাজার করলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক। ঋণ ও ধারদেনা করে গড়ে তোলা ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের আদম ক্রোকি মনিরাবাদ এলাকায়। ভুক্তভোগী কৃষকের নাম হানিফা বেপারী। অভিযুক্ত প্রতিবেশীর নাম আফজাল মোল্লা।
হানিফা বেপারীর অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে আফজাল মোল্লার সঙ্গে টাকা ধার দেওয়া-নেওয়া নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে গত ২০ অক্টোবর রাতে তাঁর ৭৫ শতাংশ জমিতে চাষ করা প্রায় পাঁচ হাজার করলাগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে পুরো ফসলের ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক জানান, ঋণ ও বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে তিনি করলার আবাদ করেছিলেন। ফসল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে ফেলায় তাঁর সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আফজাল মোল্লা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, করলাগাছ কাটার ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। তাঁর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে যেকোনো বিচার মেনে নেবেন বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক নড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
স্থানীয়ভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে, ফসলের এমন ক্ষতি একজন কৃষকের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।




মন্তব্য করুন