একটি সেতু দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন শত শত মানুষ। অথচ সেতুটি এতটাই জরাজীর্ণ যে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ঝুঁকির বিষয়টি জানা থাকলেও বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের সমিতির হাট এলাকার নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো স্টিলের সেতুটি এখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংস্কার কিংবা নতুন সেতু নির্মাণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। স্টিলের খুঁটি ও গার্ডারের পাশাপাশি এর পাটাতন এবং রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশ আরসিসি কাঠামোতে তৈরি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সেতুটির নিচের স্টিলের খুঁটি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে কাঠামো দেবে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রতিদিন ছোট অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সেতুটি দিয়ে চলাচল করছে।
সেতুর কাছেই রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চবিদ্যালয় এবং সমিতির হাট বাজার। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেতুর কোনো অংশ ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইমাম হোসেন বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন ভয় নিয়ে এর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরাও এই সেতু ব্যবহার করে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
আরেক বাসিন্দা নুর ইসলাম বলেন, ‘এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি জেনেও সবাইকে এটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রাফেউল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
এলাকাবাসীর দাবি, জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।




মন্তব্য করুন