গ্রাম পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ মীমাংসা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজে বিচারিক সেবা পৌঁছে দিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে গ্রাম আদালত। শরীয়তপুর সদর উপজেলায় গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ৯২৯টি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের জন্য প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পরিচালিত ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় এ অগ্রগতি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় পর্যায়েই অনেক বিরোধের সমাধান হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে জেলা শহরের আদালতে যেতে হচ্ছে না। কমছে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে মোট ৯৫৪টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আগের সময়ের ১৬টি অনিষ্পন্ন মামলার পাশাপাশি প্রতিবেদনকালীন সময়ে নতুন করে ৯৩৮টি মামলা দায়ের করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মামলার মধ্যে ৯২৯টি নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯৩টি দেওয়ানি এবং ৪৩৬টি ফৌজদারি মামলা। তবে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার বাইরে বর্তমানে কতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনের তথ্যে সংখ্যাগত অসংগতি রয়েছে।
ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোর জন্য মোট ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা আদায় ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং ফৌজদারি মামলায় ৯ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে এলাকার ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগে এসব বিরোধ নিয়ে অনেক মানুষকে দীর্ঘদিন আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হতো। এখন ইউনিয়ন পর্যায়েই বিরোধ মীমাংসার সুযোগ পাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ কমছে। পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সহজে ও স্বল্প খরচে বিচারিক সেবা পাবেন। এতে স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি প্রচলিত আদালতগুলোর মামলার চাপ কমাতেও সহায়তা হবে।
শরীয়তপুর সদরে গ্রাম আদালতের এ অগ্রগতি স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক বিরোধ নিরসনে আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।




মন্তব্য করুন