বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরতে শরীয়তপুরের জেড. এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় শিক্ষার্থীদের তৈরি ৪০টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প
প্রদর্শিত হয়।

 

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘উদ্ভাবন, অনুসন্ধান ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ’।

মেলায় শরীয়তপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. হুমায়ুন কবির হাই স্কুল, কার্তিকপুর হাই স্কুল, হাজী শরীয়তউল্লাহ কলেজ, মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার সরকারি হাই স্কুল।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁদের তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করেন।

মেলা পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন, ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুল খালেক, রেজিস্ট্রার খন্দকার তাহমিনা নিষাদ এলিন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আখতারুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মশহুদ উজ জামান এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহীদুর রহমান খান।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রকল্পের কার্যপদ্ধতি, প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। নতুন কিছু তৈরির প্রচেষ্টা ও সৃজনশীল চিন্তার প্রশংসা করে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু প্রকল্প প্রদর্শন নয়, বাস্তব সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তোলাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে নির্বাচিত সেরা প্রকল্পের উদ্ভাবকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞান মেলার সার্বিক আয়োজনে স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বেসিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, অ্যালবাট্রস এডুকেশন ও ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি।