পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কবিরাজি চিকিৎসার আড়ালে এক কিশোরীকে ব্ল্যাকমেইল এবং তার সঙ্গে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাইজুল ইসলাম মুসা (৪০) নামের এক ভুয়া কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে লোকমুখে কবিরাজ তাইজুল ইসলামের চিকিৎসার কথা জানতে পারে ভুক্তভোগী কিশোরী। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য তার কাছে গেলে শুরু হয় প্রতারণা ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

চিকিৎসার ছলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন অভিযুক্ত মুসা। শুধু তাই নয়, তার সহযোগীদের পূর্বপরিকল্পিত সহায়তায় পুরো ঘটনার ভিডিও গোপনে ধারণ করে রাখা হয়।

একপর্যায়ে বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবার জানতে পারলে কিশোরীর বাবা অভিযুক্ত মুসাকে তার মেয়েকে বিয়ের অনুরোধ জানান। কিন্তু সেই প্রস্তাবে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়ে মুসা আক্রোশবশত ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিওগুলো হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার সমাজে মারাত্মকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন এবং চরম সম্মানহানির মুখোমুখি দাঁড়ান। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়ের পরই প্রধান অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম মুসা আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলাপাড়ার টিয়াখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এসআরবি-৮ এর একটি দল।

ঘটনাটি নিশ্চিত করে এসআরবি-৮ এর মিডিয়া কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার সাথী আক্তার জানান, গ্রেফতারকৃত তাইজুল ইসলাম মুসা পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন মনসাতলী গ্রামের বাসিন্দা। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাকে পরবর্তী সময়ে কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।