শরীয়তপুর জেলাকে একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক রেললাইন বাস্তবায়নসহ দুটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘোষণা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ অপু বলেন, ‘শরীয়তপুরের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে জেলার সকল সংসদ সদস্য অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন।’ জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও প্রাণের দাবি এই রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উচ্চশিক্ষার প্রসারের বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি আরও জানান, জেলার তরুণ সমাজের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও বর্তমানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এই বহুমুখী প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শরীয়তপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক শিক্ষাখাত এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই সংসদ সদস্য।

শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. এনামুল হক হাওলাদারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই নবীনবরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যসহ বিভিন্ন বর্ণিল পর্ব পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালু।

এ ছাড়া আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে তালিকাভুক্ত অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাইদ আহমেদ আসলাম, শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সফিকুর রহমান (কিরণ) এবং সংরক্ষিত নারী আসন-৩৬-এর মাননীয় সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বক্তারা বলেন, কেবল গতানুগতিক পুঁথিগত শিক্ষার গণ্ডির মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে টিকে থাকতে হলে নিজেদের দক্ষ, মানবিক গুণসম্পন্ন ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশ ও সমাজের সার্বিক অগ্রগতিতে আগামী দিনের কর্ণধার এই তরুণ প্রজন্মকেই সর্বাগ্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তাঁরা। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আমন্ত্রিত এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।