বিবাহবিচ্ছেদের পরও থাকার জায়গার অভাবে সাবেক স্বামীর বাড়িতে বসবাস করছিলেন কল্পনা আক্তার (২৬)। বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের সামনে তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামী কালু তালুকদারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত কল্পনা আক্তার সদর উপজেলার চড় পালং এলাকার কাদির তালুকদার ও বিলকিস বেগমের মেয়ে। অভিযুক্ত কালু তালুকদার একই উপজেলার আঙ্গারিয়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে কালু তালুকদারের সঙ্গে কল্পনার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। একপর্যায়ে প্রায় ছয় মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে বিচ্ছেদের পরও থাকার জায়গার অভাবে সন্তানকে নিয়ে সাবেক স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছিলেন কল্পনা।
সম্প্রতি কল্পনাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন কালু। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের সামনে কল্পনাকে একা পেয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় চাপাতি দিয়ে তাঁর ঘাড়, কোমর ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় কল্পনাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। অন্যদিকে, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন কালু তালুকদারকে আটক করে মারধর করেন। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আহত কল্পনার বড় বোন নার্গিস বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিবাহবিচ্ছেদের পরও কালু বিভিন্ন সময়ে তাঁর বোনকে আবার সংসার করার জন্য চাপ দিতেন। কিন্তু কল্পনা তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন কালু। সোমবার রাতে হাসপাতালের সামনে একা পেয়ে তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নার্গিস বেগম।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ওই নারী ও তাঁর সাবেক স্বামীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। থাকার জায়গা না থাকায় বিবাহবিচ্ছেদের পরও তিনি সাবেক স্বামীর বাড়িতে বসবাস করছিলেন। সোমবার হাসপাতালের সামনে তাঁকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কালু তালুকদারকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




মন্তব্য করুন