সন্ধ্যা নামলেই ভুতুড়ে অন্ধকারে তলিয়ে যায় শরীয়তপুর পৌরসভার অধিকাংশ সড়ক ও অলিগলি। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার অর্ধেকের বেশি সড়কবাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা না পাওয়ার আক্ষেপের পাশাপাশি অন্ধকারের সুযোগে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

শহরের চৌরঙ্গীর মোড়, বটতলা, ডাকঘর সড়ক ও নিরালা আবাসিক এলাকার মতো ব্যস্ততম স্থানে প্রায় দুই হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত এসব এলাকায় মানুষের আনাগোনা থাকলেও সরকারি আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বটতলা মোড়ের ফল বিক্রেতা আনোয়ার জানান, দোকানপাট বন্ধের পর পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগেই দোকানের সামনে বাতি জ্বালিয়ে রাখেন।

মূল সড়কের চেয়েও বর্ধিত পৌর এলাকার পাড়া-মহল্লার অবস্থা আরও নাজুক। ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কিশোর কোতোয়াল ও লিটন কুমার অভিযোগ করেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে তাদের মহল্লার গলিতে কোনো বাতি জ্বলে না। অন্যদিকে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বালুচড়ার বাসিন্দা বাদল খান ও নাইম শেখের মতে, ছয়-সাত বছর আগে ল্যাম্পপোস্ট বসানো হলেও দেড় বছরের মাথায় সব বাতি নষ্ট হয়ে যায়, যা আজও মেরামত করা হয়নি। সড়কবাতির এই সংকটের সঙ্গে সুপেয় পানির অভাব এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ নাগরিক দুর্ভোগকে চরমে নিয়ে গেছে।

সড়কবাতি নষ্ট হওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শর্টসার্কিট, ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ এবং ইট ছুড়ে বাতি ভাঙা বা চুরির মতো ঘটনাকে দায়ী করেছেন পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনামুল হক। তবে সংকট নিরসনে নতুন করে ২০০টি স্ট্রিট লাইট বসানোর কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার) মো. ওয়াহিদ হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ফুটপাত দখলমুক্ত করাসহ পৌরসভার বাজেট অনুযায়ী অন্যান্য নাগরিক সমস্যাও পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।