যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও গাজায় বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় আয়োজিত ‘জয় ড্রেস ৩’ গণবিয়েতে লটারির মাধ্যমে তাদের নির্বাচন করা হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গণবিয়েতে অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন ১১ হাজার ৬২২ জন। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৩৩৫ জন চূড়ান্ত লটারিতে অংশ নেন; সেখান থেকে ২৫০ বর ও ২৫০ কনে নির্বাচিত হন।

গাজা সিটির উপকূলীয় সড়ক ধরে বিয়ের শোভাযাত্রা এগিয়ে যায় ধ্বংস হওয়া ভবন ও বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুর পাশ দিয়ে। ফিলিস্তিনি পতাকা, ফুল ও লাল ফিতায় সাজানো গাড়িগুলো সমুদ্রতীরের সি ক্লাবে পৌঁছায়। বররা স্যুট এবং কনেরা রঙিন ফিলিস্তিনি নকশার সাদা পোশাকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

লটারিতে নির্বাচিত বর সাঈদ আল-নাজ্জার বলেন, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে তার বাড়ি ধ্বংস হয়েছে; এখন তারা জাবালিয়ার তাঁবুতে থাকেন। তিনি জানান, এই আনন্দ শুধু ২৫০ বরের নয়, পুরো গাজার মানুষের।

আরেক বর মুনির আল-তাতারি যুদ্ধে মা ও পরিবারের অনেক সদস্যকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, অবরোধ ও যুদ্ধ চললেও তারা আনন্দ করবেন এবং হৃদয়ে আবার আশা ফিরিয়ে আনবেন। বর মোহাম্মদ কুওয়াইদির জানান, বাড়ি হারানোয় তাঁবুতেই শুরু করতে হবে দাম্পত্য জীবন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বাস করছেন।