যে ছেলেটি অভাবের কারণে সকালে নাশতা করতে পারতেন না, তিনিই ৩৫তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের সমাজকল্যাণ বিষয়ে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন। কুড়িগ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান আবু সায়েমের এই সাফল্য সংগ্রামের এক দলিল।

সায়েমের বাবা অন্যের জমিতে কাজ করতেন। সেই সামান্য আয়ে তিনবেলা খাবার জুটত না। সংসারের অভাব মেটাতে মা অন্যের কাঁথা সেলাই করতেন; সেই কাঁথা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করতেন সায়েম। সকালের নাশতা বলতে অন্যের পেয়ারাগাছের নিচে পড়ে থাকা বাদুড়ে খাওয়া পেয়ারা। ঘরে চাল না থাকলে কাঁচা-পাকা পেঁপে খেয়েই দিন কাটাত।

একবার ক্ষুধার তাড়নায় বাবা খেত থেকে কলাই তুলে আনেন; সেই কলাই ভাজা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সায়েম। তবু অভাব তাঁর স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারেনি। এইচএসসি পরীক্ষার পর কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিয়ে পেয়েছিলেন মাত্র ২ হাজার ৩০০ টাকা; সেই টাকা দিয়েই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং সুযোগ পান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতেন তিনি। চাকরির প্রস্তুতির দিনগুলোতে দুপুরে পাঁচ টাকার পাউরুটি খেয়েই কাটত দিন। বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় যাওয়ার মতো ভালো পোশাকও ছিল না; শেষ পর্যন্ত এক বন্ধু এগিয়ে আসেন।

সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর মায়ের। অন্যের কাঁথা সেলাই করে প্রতি কাঁথায় ৭০ থেকে ১০০ টাকা মজুরি পেতেন তিনি। সেই মায়ের ১০টি আঙুলে আজও অসংখ্য ছিদ্রের দাগ; প্রতিটি ক্ষত সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার সাক্ষী।