শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খননের দায়ে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড এবং এক্সাভেটর মালিককে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তিনটি ভেকু (এক্সাভেটর) মেশিন অচল করে দেওয়া হয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ও রামভদ্রপুর এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষিজমি রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সোনালী আশ পাট, পেঁয়াজ, সরিষা, টমেটো ও আমন ধানের ফসলি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে সেই মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা হতো এবং অনেকে বাড়ির ভিটা তৈরির জন্য মাটি কিনতেন। এতে দিন দিন কৃষিজমি হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল।
সংবাদ পেয়ে প্রশাসন রামভদ্রপুর ও মহিষার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ফসলি জমির উর্বর মাটি কাটার অপরাধে এক এক্সাভেটর চালককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই অপরাধে এক্সাভেটর মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং পুকুর মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে থাকা তিনটি এক্সাভেটরের যন্ত্রপাতি অচল করে দেওয়া হয়।
অভিযানে ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে.এম. রাফসান রাব্বি বলেন, অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটার ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই কৃষিজমি ধ্বংস করে পুকুর খনন বা মাটি বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন