জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান দলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অকাট্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, “প্রতিবেদনে অস্ত্রের ব্যবহার, হতাহতের সংখ্যা এবং নির্যাতনের বিবরণ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, এটি একটি পরিকল্পিত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সমর্থিত হামলা ছিল। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ বহন করে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিডেন্স হিসেবে বিবেচনা করবে।”

জাতিসংঘের প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক দলের দ্বারা প্রভাবিত নয়। জাতিসংঘের তদন্ত দল অপরাধী ও ভুক্তভোগী উভয়ের সঙ্গে কথা বলেছে এবং ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। ফলে, এই প্রতিবেদন যথার্থ এবং গ্রহণযোগ্য দলিল হিসেবে আদালতে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ সুপারিশ করেছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে, সংস্থাটি মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে একটি স্থগিতাদেশ (মরাটোরিয়াম) আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে, যা বিচারকদের বিবেচনার বিষয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলন দমন করতে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় সশস্ত্র কর্মীদের ব্যবহার করেছে, যার ফলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘের মতে, সরকার ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই দমনপীড়ন চালিয়েছে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

Facebook Comments Box