বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শেখ হাসিনার নির্দেশেই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সন্তোষ প্রকাশ

মির্জা ফখরুল জাতিসংঘের প্রতিবেদনের জন্য সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, জাতিসংঘের রিপোর্টে তা প্রকাশিত হয়েছে। এতদিন আমরা রাজনৈতিকভাবে এই দাবি জানালেও অনেকেই বিশ্বাস করতে চাননি। এখন এটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার নির্দেশেই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। তার শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতন্ত্র হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো তার নির্দেশেই ঘটেছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি ফ্যাসিস্ট শাসক।”

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি

বিএনপি মহাসচিব জানান, তার দল ভারত সরকারের কাছে দাবি জানাবে, যেন শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে বিচারের আওতায় আনা হয়। পাশাপাশি, তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ও গুমের অভিযোগ

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কোনো দল নিষিদ্ধ হবে কি না, তা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।”

সরকারের বিরুদ্ধে গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, “শুধু বিরোধী দল নয়, সাধারণ মানুষকেও গুম করা হয়েছে। এমনকি অনেককে ধরে এনে জঙ্গি নাটক সাজানো হয়েছে।”

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। দ্রুত জাতীয় নির্বাচন হওয়া জরুরি, যাতে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরে আসে, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।”

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা বলেছে।

বৈঠকে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদও উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box