লালমনিরহাটে টিএসপি সার বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সংকট দেখিয়ে সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন। গোপনে সার মজুদ করে রাখা এবং তামাক কোম্পানির কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এতে আমন ধানসহ মৌসুমি ফসল উৎপাদনে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, সরকার প্রতি বস্তা টিএসপি সারের দাম নির্ধারণ করেছে ১,৩৫০ টাকা ও খুচরা ২৭ টাকা কেজি। কিন্তু জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এই সার বিক্রি হচ্ছে ১,৬০০ থেকে ১,৭০০ টাকা, এমনকি আদিতমারীতে ২,০০০-২,৫০০ টাকায়। প্রতি কেজির দাম নেওয়া হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত।

সদর উপজেলার কৃষক সন্তোষ কুমার রায় বলেন,“আমন মৌসুমে টিএসপি সারের বিশেষ প্রয়োজন, কিন্তু ডিলার বা খুচরা দোকান কোথাও পাইনি। বাধ্য হয়ে ইউরিয়া ও ডিএপি কিনেছি।”

একই অভিযোগ আনোয়ারুল ইসলাম, চাঁদ মিয়া ও হাফিজুর রহমানসহ অনেক কৃষকের। তারা জানান, ডিলাররা সার মজুদ রেখে সাধারণ কৃষকদের কাছে সংকট তৈরি করছেন। ফলে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

এক খুচরা বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,“আমরা ডিলারের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি। ১,৩৫০ টাকার টিএসপি আমাদের কিনতে হচ্ছে ১,৫০০-১,৬০০ টাকায়। তাই বাধ্য হয়ে কৃষকদের কাছেও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। বাফার গোডাউনে যথেষ্ট মজুদ আছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ইউরিয়া ৩৯,৬৯০ টন, টিএসপি ১২,৭০২ টন, ডিএপি ২৩,৫১১ টন ও এমওপি ১৫,৮৫৩ টন বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

উপ-পরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন,“আমাদের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে। কোনো অভাব বা দাম বাড়ার অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Facebook Comments Box