৮ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ অভিযোগ আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।
দুই মামলায় প্রধান আসামি শেখ হাসিনা। তার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, ডিজিএফআইয়ের পাঁচ সাবেক মহাপরিচালকসহ মোট ২৩ জন বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন বেসামরিক কর্মকর্তা আসামির তালিকায় রয়েছেন।
প্রসিকিউশন পক্ষের প্রধান কৌঁসুলি মো. তাজুল ইসলাম জানান, সংশোধিত আইনের আওতায় অভিযুক্তরা আর কোনো পদে থাকতে পারবেন না। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী মতাবলম্বীদের গুম করে টিএফআই ও জেআইসি বন্দিশালায় নির্যাতন চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় শতাধিক মানুষ নিখোঁজ, অনেকে নিহত হয়েছেন এবং লাশও গুম করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ‘আয়নাঘর’ নামে গোপন বন্দিশালার অস্তিত্ব ও সেখানে চালানো নির্যাতনের প্রমাণ উঠে আসে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ভারত পালনের পর কয়েকজন গুমের শিকার ব্যক্তি মুক্তি পান, যাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম ও আবদুল্লাহিল আমান আযমী উল্লেখযোগ্য।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডেপুটেশনে থাকা সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন। প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেনাবাহিনী পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এতে গুমকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ অক্টোবর।

মন্তব্য করুন