সরকারি অর্থ লোপাট ও দুর্নীতির এক আলোচিত নাম মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে কেনাকাটায় তার প্রভাব ছিল। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বহু প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই ভুয়া বিলের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মিঠু শুধু নিজের নামে নয়, ‘ক্রিয়েটিভ ট্রেড’, ‘ফিউচার ট্রেড’, ‘লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ’, ‘ইনভেনচার’ ও ‘আরডেন্ট সিস্টেম’ নামের একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেছেন।

২০১৬ সালে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে মিঠুর নাম উঠে আসে। তার বড় ভাই মোকসেদুল ইসলাম হিরু ও ভাগিনা বেনজির আহমেদের নামও ওই তালিকায় ছিল। তদন্তে জানা যায়, তারা বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থ পাচার করে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ায় বাড়ি, গাড়ি ও বিলাসবহুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় মিঠু ভুয়া বরাদ্দ ও কাগজপত্র তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা করতেন। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই ঢাকার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অফিস থেকে চেক তুলতেন।

উদাহরণস্বরূপ, ২০১২ সালে ৭ কোটি, ২০১৩ সালে ৯ কোটি এবং ২০১৮ সালে ১৫ কোটি টাকার বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো পণ্য সরবরাহ ছাড়াই বিল উত্তোলন করা হয়।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মিঠুর ৫০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ জব্দ করে। এরপর দেশ-বিদেশে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করে, তিন সদস্যের তদন্ত দল গঠন হয় এবং মিঠুর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। মামলা আদালত পর্যন্ত গড়ালেও মাঝপথে তদন্ত থেমে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ থেকেও সম্পদ বিষয়ে কোনো তথ্য চাওয়া হয়নি।

তবে শেষ পর্যন্ত গত ১০ সেপ্টেম্বর গুলশান থেকে মিঠুকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার সহযোগীদের অনেকেই এখনো পলাতক।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্য খাতকে জিম্মি করে বিদেশে সম্পদ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

Facebook Comments Box