বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আব্দুল বারি ওরফে বশির আহমেদের বিরুদ্ধে দুবাই ও যুক্তরাজ্যে কোম্পানি খুলে এলসির মাধ্যমে শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (BFIU) এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (UCB) নিজস্ব তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, বশির আহমেদ তার মালিকানাধীন ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বাংলাদেশের (PLC) কর্মচারীদের নামে অন্তত চারটি নামসর্বস্ব শেল কোম্পানি খুলেছেন—নাজ ইন্টারন্যাশনাল, আলোক ইন্টারন্যাশনাল, রুদ্র ট্রেডিং ও জিএইচএম ট্রেডার্স। এসব কোম্পানির ব্যাংক হিসাব UCB-এর বিভিন্ন শাখায় পরিচালিত হয় এবং সেগুলোর মাধ্যমে এলসি খুলে অর্থ পাঠানো হয় দুবাইয়ের প্যানমার্ক ইমপ্রেক্স মেগা ট্রেডিং LLC-এর অনুকূলে, যার শতভাগ মালিক নিজেই বশির আহমেদ।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এই পদ্ধতিতে অন্তত ১১০টি এলসি খোলা হয়েছে, যার মোট মূল্য ৪.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। ব্যাংক সূত্র বলছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েকশ হতে পারে।

দুবাইয়ে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের সময় বশির আহমেদ নিজেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং ৩ লাখ আমিরাতি দিরহাম পরিশোধ করেন। একইভাবে যুক্তরাজ্যে প্যানমার্ক ইমপ্রেক্স মেগা ট্রেডিং লিমিটেড নামে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করে নিজেকে অ্যান্টিগা ও বারমুডার নাগরিক হিসেবে দাবি করেন। কোম্পানিটির মালিকানা রয়েছে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের নামে।

দেশে-বিদেশে তার নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যে রয়েছে অ্যাপার্টমেন্ট, বাংলাদেশে বনানী, খুলশি, শাহ মিরপুর, চরলক্ষ্যা, কাঁঠালদিয়া, পূর্বাচল ও গাজীপুরে জমি ও ফ্ল্যাট। রয়েছে অন্তত ৯টি কোম্পানিতে শেয়ার, ৭২ কোটি টাকার প্রাইজবন্ড ও সঞ্চয়পত্র এবং ২২ লাখ টাকার গাড়ি। তার স্ত্রী তারানা আহমেদের নামে রয়েছে আরও ২০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক শেয়ার, ৬৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৩২ লাখ টাকার গাড়ি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এটি অর্থ পাচারের উদাহরণ। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের নামে চালান জালিয়াতি, মিস ইনভয়েসিং, ওভার-আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে ১৪ বছর পর্যন্ত জেল এবং তিন গুণ জরিমানা হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে কমন রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড ও বেনিফিশিয়ারি ওনারশিপ ট্রান্সপারেন্সি বাধ্যতামূলক না হওয়ায় এ ধরনের জালিয়াতি সম্ভব হচ্ছে। প্রকৃত মালিকানা প্রকাশ না হলে অর্থ পাচার রোধ করা কঠিন।”

অভিযোগ অস্বীকার করে বশির আহমেদ বলেন, “আমি সব আইন মেনে ব্যবসা করেছি। কোনো অর্থ পাচার করিনি। যুক্তরাজ্যে আমার কোনো সম্পত্তি নেই, আর বাংলাদেশে যা আছে তা বৈধ আয় এবং আয়কর রিটার্নে দেখানো।”

Facebook Comments Box