ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হত্যাচেষ্টায় জড়িত প্রধান দুই সন্দেহভাজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব প্রস্তুতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশ ছেড়েছেন। পুরস্কার ঘোষণা, সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা এবং পাসপোর্ট ব্লক করার খবরের মধ্যেই এই দুই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ব্যক্তি ভারত পালিয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং আলমগীর হোসেনের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আক্রমণকারীরা পল্টনের কালভার্ট রোড থেকে গুলি চালানোর পরপরই মোটরসাইকেলে করে শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট হয়ে আগারগাঁও এলাকা দিয়ে মিরপুরে প্রবেশ করে।
এরপর আশুলিয়া হয়ে গাজীপুর দিয়ে সড়কপথে তারা ময়মনসিংহ পৌঁছায়। গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে তারা এই পুরো সময় ধরে তাদের মোবাইল ফোনসহ ডিজিটাল ডিভাইসগুলো নিজেদের কাছে রাখেনি, বরং সেগুলো সচল রেখে বারবার স্থান পরিবর্তন করিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
ময়মনসিংহের ব্রিজের পাড় থেকে বাহন পাল্টে তারা হালুয়াঘাটের উদ্দেশে আরেকটি প্রাইভেটকার নেয়। হালুয়াঘাটের ধারাবাজারের একটি পেট্রোল পাম্পে নেমে তারা স্থানীয় তিন যুবকের সহায়তায় মোটরসাইকেলে ভুটিয়াপাড়া পৌঁছায়।
রাত আড়াইটা নাগাদ ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সন্দেহভাজন দুজন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম গারো পাহাড় জেলার একটি পৌরসভা এলাকার তুরায় পৌঁছায় বলে জানা গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৪ ডিসেম্বর রবিবার পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করছিল।
এদিকে, গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সোমবার সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৪ ডিসেম্বর রবিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংকটাপন্ন অবস্থায় রবিবার পর্যন্ত রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে হাদির চিকিৎসা চলছিল।
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে জরুরি টেলিফোন কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত হয় বলে প্রেস উইং জানায়। চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন, হাদির শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
হামলার পরপরই পুলিশ যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের কথা ১৪ ডিসেম্বর রবিবার জানিয়েছিল, তার মধ্যেই প্রধান সন্দেহভাজনদের দেশত্যাগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিবিড় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মন্তব্য করুন