মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের একটি সাধারণ গ্রাম সোনাতুন্দী। তবে গত কয়েক দিন ধরে এই গ্রামটিই জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সরকারি মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় এই গ্রাম থেকেই একসঙ্গে তিনজন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সোনাতুন্দী গ্রামের তিন কৃতি সন্তান দেশের শীর্ষস্থানীয় তিনটি মেডিকেল কলেজে মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। তারা হলেন—মুগদা মেডিকেল কলেজে সুযোগ পাওয়া আরাফাত মাহমুদ, খুলনা মেডিকেল কলেজে নুরসাত জাহান তনিমা এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে সুযোগ পাওয়া নাফিজ ইকবাল নিশান।

এই তিন শিক্ষার্থীর বিশেষত্ব হলো, তারা সবাই স্থানীয় হাট দ্বারিয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং ২০২২ সালে সেখান থেকেই এসএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েও তারা তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।

আরাফাত মাহমুদ ও নুরসাত জাহান তনিমা স্থানীয় দ্বারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৪ সালে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। অন্যদিকে, নাফিজ ইকবাল নিশান বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই তিন তরুণের স্বপ্ন এখন একজন মানবিক চিকিৎসক হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করা।

সাফল্যের বিষয়ে নাফিজ ইকবাল নিশান জানান, কঠোর পরিশ্রম আর পরিবারের নিরন্তর সহযোগিতাই তাকে এই অবস্থানে এনেছে। তিনি ভবিষ্যতে একজন দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চান।

এলাকাবাসীর মতে, একই গ্রাম থেকে একসঙ্গে তিনজন মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া শুধু সোনাতুন্দী নয়, বরং পুরো মাগুরার জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ। স্থানীয় সব্দালপুর ইউপি চেয়ারম্যান পান্না খাতুন জানান, গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের এমন বড় সাফল্য আগামী প্রজন্মের জন্য বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box