২৫ ডিসেম্বর ২০২৫—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, বিতর্ক ও প্রত্যয়ের ভেতর দিয়ে বিএনপি-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়; এটি রাজনৈতিক সময়চিহ্ন এবং নতুন বাস্তবতার সূচনা।
রাজনীতি কেবল ক্ষমতার সমীকরণ নয়; এটি আবেগ, বিশ্বাস ও জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। বহুদিন ধরে যে আহ্বান নীরবে মানুষের অন্তরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, আজ তা প্রকাশ্য উচ্চারণে রূপ নিয়েছে—“মা ডাকছে, মাটি ডাকছে—তারেক রহমান আসছে।”
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশের রাজনীতি গভীর সংকট, আস্থাহীনতা ও গণতান্ত্রিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তার ফিরে আসা যেমন বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রবাস-নীরবতার পর এই প্রত্যাবর্তন দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
প্রবাসের ভৌগোলিক দূরত্ব কখনোই তাকে দেশের রাজনীতি, মানুষের আবেগ বা জাতীয় প্রশ্ন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। কঠিন সময়ের পরীক্ষায় তিনি যে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন, এই প্রত্যাবর্তন সেই ধারারই স্বদেশমুখী রূপ। তবে প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বও বেড়ে যায়। গণতন্ত্র, সহনশীলতা ও রাজনৈতিক শালীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দায়িত্ব এখন আরও গভীরভাবে সামনে এসেছে।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নগরের রাজপথ পর্যন্ত যে প্রত্যাশার সুর শোনা যাচ্ছে, তা কেবল আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়—এটি ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনার স্পষ্ট ইঙ্গিত। জনগণ চায় দায়িত্বশীল, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাজনীতি; অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই দিনটি রাজনীতিকে নতুন করে ভাবতে শেখায়, ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর সাহস জোগায়। মা, মাটি ও মানুষের ডাকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এই অধ্যায় যেন দায়িত্ব, সংযম ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার আলোয় রচিত হয়—এটাই আজ জাতির প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন