সুদীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মাতৃহারা হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালে মা বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়লগ্নে শয্যাপাশেই ছিলেন তিনি। জীবনের দীর্ঘ সময় দূরে থাকার আক্ষেপ নিয়ে শেষ সময়ে মায়ের জন্য দোয়া করেছেন বড় ছেলে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকরা জানান, মায়ের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে অনেকটা নিভৃতে পাথরের মতো হয়ে যান তারেক রহমান। আইসিইউ থেকে বাসায় ফিরে সংক্ষিপ্ত সময় কাটিয়ে সরাসরি চলে যান গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে।
যে কার্যালয়ে মাত্র কয়েক দিন আগে তার রাজসিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল, মঙ্গলবার সেখানে ছিল স্তব্ধতা। বৈঠকে তাকে অনেকটাই নির্বাক ও বিমর্ষ দেখা গেছে। দলীয় সূত্র জানায়, শোকের শক্তিকে ধারণ করে তিনি মায়ের জানাজা ও দাফনের যাবতীয় নির্দেশনা তদারকি করছেন।
রাজনৈতিক ও পারিবারিক লড়াইয়ে বারবার আঘাত এসেছে জিয়া পরিবারে। ১৯৮১ সালে পিতাকে হারানোর পর ২০১৫ সালে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে একা হয়ে পড়েছিলেন তারেক রহমান। এবার মায়ের প্রস্থানে তিনি সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন হয়ে পড়লেন।
খালেদা জিয়ার শেষ ইচ্ছা ছিল দেশের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা। সেই ইচ্ছা পূরণ হলেও ছেলের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাঁর বিদায় দল ও পরিবারের জন্য বড় শোকের ছায়া নিয়ে এসেছে। এখন মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও আদর্শের মশাল নিয়ে একাই পথ চলতে হবে তারেক রহমানকে।

মন্তব্য করুন