মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে কুয়েতের ভিসা প্রসেসিং নিয়ে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে সরকার। নির্ধারিত ফির চেয়ে অন্তত সাত গুণ বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তথাকথিত ‘সিন্ডিকেট প্রধান’ আব্দুস সালাম আরেফকে তলব করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। আগামীকাল ৮ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) তাকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, বর্তমানে কুয়েত বাংলাদেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম শ্রমবাজার। তবে অভিযোগ উঠেছে, দেশের প্রায় ২ হাজার ৯০০ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে পাশ কাটিয়ে মাত্র ১৫টি এজেন্সি পুরো বাজারটি জিম্মি করে রেখেছে। গত আট বছরে এই সিন্ডিকেট অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মীর কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুয়েতের ভিসা প্রসেসিংয়ের সরকারি ফি মাত্র ৫ হাজার ৩০০ টাকা হলেও সিন্ডিকেটের কারণে কর্মীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, আটাব-এর (ATAB) সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ তার পদ ব্যবহার করে মর্ডান ওভারসিজের মাধ্যমে এই মনোপলি তৈরি করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিমানের গ্রুপ টিকিট অবৈধভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও খতিয়ে দেখছে কমিশন।

প্রতিযোগিতা কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইকতিদার আলমের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ দল এই অনিয়মের তদন্ত করছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত দিনে হাজির হতে ব্যর্থ হলে বা প্রয়োজনীয় নথি জমা না দিলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে গত বছরের আগস্টেই আরেফের নেতৃত্বাধীন আটাবের কমিটি বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ করেছিল সরকার।

Facebook Comments Box