জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে সাইবার হামলার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গোয়েন্দা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগের এই সংবেদনশীল সময়ে ভোটার তথ্যভাণ্ডার, নির্বাচন কমিশনের পরিকাঠামো এবং রাজনৈতিক নেতাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো বড় ধরনের নাশকতার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আধুনিক নির্বাচন এখন আর শুধু ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রিত হয় ডিজিটাল পর্দার ট্রেন্ড আর টাইমলাইনে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মলদোভা ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ডি-ডস (DDoS) আক্রমণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় তথ্যসেবা অচল করার নজির বাংলাদেশেও পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সমন্বিত গুজব, ডিপফেক ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে জনমতকে বিভ্রান্ত করার কৌশল এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনাকে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শীর্ষ নেতাদের অ্যাকাউন্ট থেকে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি এখন আর তাত্ত্বিক কোনো বিষয় নয়, বরং বাস্তব হুমকি। এমনকি মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীদের আইডি হ্যাকিংয়ের চেষ্টাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনের আইটি শাখা নিরাপত্তার কড়াকড়ির দাবি জানালেও স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, সরকারি প্রস্তুতি ও বাস্তব সক্ষমতার মধ্যে বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি (জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা) সতর্কবার্তা দিলেও কারিগরি জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ঘাটতি রয়ে গেছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কেএম মহিউদ্দিনের মতে, হ্যাকাররা এখন ‘র‍্যানসমওয়্যার-এজ-এ-সার্ভিস’-এর মতো উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, ওআইসি-সিআইআরটি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা মনে করেন, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি নীতিগত দুর্বলতা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ভোটের তথ্য শূন্যতা তৈরি করতে গণমাধ্যমের পোর্টালগুলোতেও বড় ধরনের ডি-ডস আক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ডিজিটাল যুদ্ধের ময়দানে সরকার কতটা সুরক্ষা দিতে পারবে, তা নিয়ে এখন জনমনে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।

Facebook Comments Box