শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাইচকুড়ি গ্রামের মৃত আ. রব মাঝির ছেলে বাবুল মাঝি বিচারিক আদালত মানতে রাজি। বাবুল মাঝির সাথে আলাপকালে এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন তিনি। অথচ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করে নালিশী সম্পত্তিতে দখল নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে এই বাবুল মাঝির বিরুদ্ধে। আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নালিশী সম্পত্তিতে বেড়া স্থাপন করে নিজ দখলে রাখার সত্যতাও মিলেছে সরেজমিনে গিয়ে।
মামলার আর্জি পর্যালোচনায় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ধনই গ্রামের সামসুল হক মাঝিদের সাথে একই গ্রামের মৃত আ. হক মাঝির ছেলে হারুন মাঝি ও জয়নাল মাঝি, কাইচকুড়ি গ্রামের আ. রব মাঝির ছেলে বাবুল মাঝি ও বিল্লাল মাঝি এবং মৃত রূপচান মাঝির ছেলে আ. জলিল মাঝিগংদের সাথে জমিজমা নিয়ে ভেদরগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী ৫/২০১৯ নং মামলা চলমান রয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৩ তারিখ মামলার বাদী সামসুল হক মাঝি বিবাদী আ. জলিল মাঝি, বাবুল মাঝি, বিল্লাল মাঝি, হারুন মাঝি ও জয়নাল মাঝিদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করে। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত উক্ত আবেদন শুনানী না হওয়া পর্যন্ত উল্লেখিত বিবাদীদের নালিশী জমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেন। অদ্যবধি মামলার একাধিক তারিখ অতিবাহিত হলেও নিষেধাজ্ঞার আবেদনের শুনানি নিস্পত্তি হয় নাই। অথচ মামলার ২৮ ও ২৯ নং বিবাদী আদালতের আদেশ অমান্য করে নালিশী জমিতে প্রবেশ করে সীমানা পিলার সরিয়ে স¦ইচ্ছায় নালিশী সম্পত্তির কিছু অংশ দখলে নিয়ে বেড়া দিয়েছে। এ নিয়ে মামলার বাদী পক্ষ ও এলাকাবাসীর মাঝে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার বাদী সামসুল হক মাঝি বলেন, কাইচকুড়ি মৌজার ৭৭ নং খতিয়ানের আরএস ৬৪৩ নং দাগের ৭৭ শতাংশ জমির মধ্যে আমি ৪৮ শতাংশ জমি ক্রয়সূত্রে বাদীপক্ষ মালিক। আমি বিগত দিনে সেই জমিতে ভোগ দখলে রয়েছি। গত বছরের শুরুর দিকে গুঞ্জন শুনি বাবুল মাদবরগং নাকি সেই জমিতে দখল নিবে। গুঞ্জন শুনে আমি ভেদরগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে গিয়ে মামলা করি। মামলা করার পরেও শুনি বাবুল মাদবরগং আবারও নালিশী জমি দখলের জন্য চক্রান্ত করছে। পরবর্তীতে নাশিলী জমির উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করি। আবেদনের শুনানী না হওয়া পর্যন্ত আদালত নালিশী জমিতে নিষেধাজ্ঞার আদেশ মঞ্জুর করেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে আদালতের আদেশ অমান্য করে বাবুল মাঝিগং নালিশী জমিতে প্রবেশ করে পুরাতন আইল খুুঁটি ফেলে দিয়ে নতুন বেড়া দিয়ে নালিশী জমির অনেক অংশ দখল করেছেন।
মোক্তার মাঝি বলেন, বাবুল মাঝি ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি তোফাজ্জল মোড়লের জামাতা। সেই ক্ষমতার জোরে বাবুল মাঝি ধরাকে সরাজ্ঞান করে। সে আদালতের আদেশ পর্যন্ত অমান্য করে। এই পর্যন্ত বাবুল মাঝি ধীরে ধীরে প্রতিবেশীর জমি পর্যন্ত দখল করেছে। আমার নিজস্ব জমিতে বাড়ি করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করি। সেই জমিতে বাবুল মাঝির মালিকানা রয়েছে বলেও বাঁধা প্রদান করে এবং আমার ভাইদের মারধর করে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বাবুল মাঝির চাচা আ. জলিল মাঝি একাধিক শালিশীর তারিখ দিয়েও উপস্থিত হয় নাই। এখন আবার গোবর ও ময়লা ফেলে আমার জমি দখলের চেষ্টা করছে বাবুল মাঝি। এককথায় বাবুল মাঝির চাচা জলিল মাঝি কুবুদ্ধি দিয়ে বাবুল মাঝির দলবলকে সহায়তা করেন। স্থানীয় এই বিরোধ নিস্পত্তি না হলে এলাকায় আরও বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।
বারেক মাঝি বলেন, আরএস. সিএসএস ও এসএ রেকর্ডে আমরা ২৮ শতাংশ জমির মালিক। সেখানে বিআরএস রেকর্ডে আমাদের নামে ১৬ শতাংশ জমি রেকর্ড হয়। অবশিষ্ট ১২ শতাংশ জমি বাবুল মাঝি দখল করে খাচ্ছে। বাবুল মাঝির কাছে আমি বা আমাদের কেউ কোন জমি বিক্রি করিনাই। বাবুল মাঝি কিভাবে আমাদের জমি দখল করে খায় তার কোন কাগজপত্রও দেখায় না।
এ বিষয়ে বাবুল মাঝি বলেন, আমি থানার ওসির উপস্থিতিতে আমার জমিতে বেড়া দিয়েছি। জমির যে পর্যন্ত দখল করেছি সেই পর্যন্ত আমিই পাব। আমি মোক্তার মাঝিদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ জমি কিনেছি। সেই জমি দখল করে মোক্তার মাঝি বাড়ি করার চেষ্টা চালায় তাই আমি বঁধা দিয়েছি। গোবর ও ময়লা আমার জমিতেই ফেলছি। এরপরও আমার দখলে জমি কম রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ভাল জ্ঞান রাখে এমন কোন ব্যক্তিগণ যদি বিষয়টি মীমাংসা করে দেয় তা মেনে নিব।
এ বিষয়ে আ. জলিল মাঝি বলেন, আমি ঢাকায় আছি। আগামী ২১ জানুয়ারী ভেদরগঞ্জ এসে ১৫ দিন অবস্থান করব। তখন বুঝদার ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দিব।
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন