শরীয়তপুর সদর উপজেলার কাগদী গ্রামে রাস্তা নির্মাণে ধীরগতি। ভোগান্তিতে পড়েছে পাঁচশতাধীক গ্রামের মানুষ। স্কুলে যেতে পারছে না কোমলমতি শিশুরা। অনেক শিশুসহ বয়স্করা গর্তে পড়ে আহত হবার মতো পরিস্থিতি হয়েছে।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ মার্চ বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কাগদি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কাগদী ৬নং ওয়ার্ড সিদ্দিকের দোকানের সামনে থেকে গভীর করে ড্রেন করে রেখেছে। ড্রেনের দুইপাশে চলাচলের মতো কোন জায়গা রাখা হয় নি। গ্রামের মানুষের যাতায়ত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু মানুষ বিশেষ প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে।
এলাকার বিল্লাল খান (৫৫) বলেন, জনগণের সমস্যা সৃষ্টি করে কোন কাজ করার নিয়ম আছে না কী? ঠিকাদার রাস্তা তৈরীতে গভীর করে খাল কেটে রেখেছে অনেক দিন ধরে। তিনি যাতায়তের বিকল্প রাস্তা রাখেনি। মঙ্গলবার বৃষ্টি হওয়াতে গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী কাগদী স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে সেখানে পড়ে। অনেকে শহরের স্কুল কলেজে যায়। কোন শিক্ষার্থীরা এই রাস্তার কাজের জন্য যেতে পারছে না। এই মুহুর্তে একজন মুমূর্ষু রোগীকে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা চাই দ্রুত রাস্তা নির্মাণ করা হউক।
সিদ্দিকুর রহমান মুন্সী (৪৫) বলেন, পনেরো দিন যাবৎ প্রায় ৮’শ মিটার রাস্তা করতে খাল কেটে রেখেছে। গ্রামের প্রায় ৬শত মানুষ যাতায়াতের চরম সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে অনেকেই পড়ে আহত হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণ করে জনসাধারনের চলাচলের উপযুক্ত করে দিক।
রাশিদা বেগম ( ৪০) বলেন, এরকম রাস্তা করতে আমি জীবনেও দেখি নাই। রাস্তা করতে গভীর খনন করেছে। দুই পাশ দিয়ে চলাচল করতে হয়। পাশে কোন জায়গা নাই, হাটতে গিয়ে কোন রকম মাটি ধ্বসে গেলে রাস্তার গর্তে অথবা পাশে থাকা ডোবায় পড়তে হবে। তাই খুব সাবধানে কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়। আমরা চাই দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করুক।
এ বিষয়ে ঠিকাদার আবু মোল্লা বলেন, ভ্যাকু দিয়ে রাস্তা এভাবে কাটা ঠিক হয়নি। এতোদিন বালু ভরাট হয়ে যেতো। সমস্যা বাঁধিয়েছে স্থানীয় নসু সরদারের ছেলে রানা সরদার। সে ৩ টাকা দরে বালু দিতে চেয়েছিলো। এখন সে বালু না দেয়াতে কাজ করতে দেরি হচ্ছে। বালুর ব্যবস্থা করতে পারলেই কাজ শুরু করবো।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর পৌরসভার উপপ্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, আমি রাস্তায় গিয়েছিলাম। আসলেই ভয়াবহ ব্যাপার। আমি ঠিকাদারকে বার-বার বলেছি এবং চিঠি দিয়েছি। কালকের ভেতর আমি রাস্তায় বালু ভরাটের ব্যবস্থা নিচ্ছি।
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন