শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগরে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তিতে ঘর তুলতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১৮ মার্চ) জয়নগর ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া সরদারকান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়নগর ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া সরদারকান্দি গ্রামের মহিউদ্দিন ব্যাপারী দুই ছেলে আব্দুল কাদির বেপারী ও সুলতান বেপারী স্থানীয় মৃত আনছের খাঁর দুই ছেলে আব্দুল আজিজ খাঁ ও আয়নাল খাঁর কাছ থেকে ১৯৯৩ সালে একই দলিলে ৮ নং জয়নগর মৌজার এস.এ ৯৪ নং খতিয়ানে ২০৯৩ নং দাগে, সাবেক ২১০১ নং লাগে ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।

প্রায় ১৫ বছর আগে সুলতান বেপারী স্ত্রী ও ৪ ছেলে সন্তান রেখে মারা যান। শুক্রবার সুলতান বেপারীর ছেলেরা বাবার রেখে যাওয়া ক্রয় কৃত সম্পত্তির অংশে বসতঘর তুলতে গেলে আব্দুল কাদির বেপারী ও তার ৫ ছেলে হাবিবুল্লাহ, আব্দুর রহমান, আব্দুর রহিম, আব্দুল করিম, ও বিল্লাল বাঁধা দেন। তারা পুলিশ এনে অন্যায় ভাবে ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। মৃত সুলতান ব্যাপারীর স্ত্রী সোনাবান বিবি অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীর রেখে যাওয়া ক্রয়কৃত জমিতে আমার ছেলেরা ঘর তুলতে পরতেছেনা। কাদির বেপারীর ছেলেরা জোর খাটিয়ে পুলিশ দিয়ে ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা অসহায় গরীব মানুষ। আপনাদের কাছে আমি এর বিচার চাই।

স্থানীয় রশিদ হাওলাদার, সিরাজ মাতুব্বর, আক্কাস আলী শিকদার, সাবের বেপারী, কুদ্দুস খাঁ, ইদ্রিস হাওলাদার, আলী হোসেন সহ অনেকে বলেন, কাদির বেপারী ও সুলতান বেপারী দুই ভাই একসাথে জমি কিনেছেন। সুলতান বেপারী অনেক আগে মারা গেছেন। এখন সুলতান বেপারীর ছেলেরা তার বাবার রেখে যাওয়া জমিতে ঘর তুলতে গেলে কাদির বেপারীর ছেলেরা পুলিশ দিয়ে অন্যায় ভাবে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সুলতান বেপারীর ছেলেরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এর সুষ্ঠু সমাধান হওয়া দরকার। কাদির বেপারীর ছেলে আব্দুর রহমান বেপারী বলেন, আমার বাবা এবং চাচা জমি এওয়াজ বদল ও ভাগবাটোয়ারা করে দীর্ঘদিন যাবত ভোগদখল করে আসছেন। আমার চাচাতো ভাইয়েরা যে জমিতে ঘর তুলতেছেন ওই জমি আমরা ভোগদখলে আছি। আমরা ওই জমিতে ফসল বুনেছি। তারা আমাদের ফসল নষ্ট করে জোরপূর্বক ওই জমিতে ঘর তুলতে গেলে আমরা থানায় অভিযোগ করি।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। জাজিরা থানার এসআই রোকন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। পরে কাগজপত্র দেখে বিষয়টি মিমাংসা করা হবে।

Facebook Comments Box