চামড়া শিল্প নিয়ে ভালো নেই শরীয়তপুর জেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য মতে, যে দাম হওয়ার কথা তার অর্ধেক মূল্যে বেচে দিতে হয়েছে চামড়া। এছাড়া চামড়া মজুদের জন্য নিজস্ব জমিতে ট্যানারি না থাকায় বছরে ভাড়া গুনতে হচ্ছে লাখ টাকা। সরকারের তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতা না থাকায় স্থানীয় চাঁদাবাজদের দিতে হচ্ছে লাখ টাকা। এসব কারনে ২০-২৫ বছর ধরে বাপদাদার ব্যবসা ধরে রাখতে গিয়ে ব্যবসায় কোটি কোটি লোকসান করে হারাতে হয়েছে নিজের ভিটেমাটি। এখন সরকারের সহযোগিতা হিসেবে ভূমি ও নগদ অর্থ ঋণ পেলে পূনরায় শরীয়তপুরের চামড়া ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাড়াতে পারবে বলে তাদের আশা।

চামড়া ব্যবসায়ী সুদেব চন্দ্র ঋষী বলেন, কোটাপাড়া বাঘিয়া এলাকায় আতাউর রহমান তালুকদারের ঘর ও গোডাউনে চামড়া ব্যবসা করে আমরা ভালো নেই। ২০-২৫ ধরে ব্যবসা করে আসছি ঘর ভাড়া নিয়ে, সেখানে ভাড়া গুনতে হচ্ছে বছরে লাখ টাকা। আবার চামড়ার গাড়ি ঠেকিয়ে স্থানীয় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী রাসেল বেপারী(৩৮), রনি বেপারী(৩৪), শান্ত বেপারী(২৫) ও বাচ্চু বেপারী(৫৮) গং লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলছে না প্রশাসনের নিকট। কারন, তাদের পেছনে রয়েছে গডফাদার।এজন্য আমরা লাভের মধ্যে নেই। চামড়া ব্যবসা চালিয়ে আমাদের নিজস্ব ভিটেমাটি হারাতে হয়েছে। তাছাড়া পূর্বের বছরগুলোতে বেশি চামড়া মজুদ রাখতে পারলেও চামড়া ব্যবসায় ধস নামায় লোকসান গুনতে গুনতে এখন অল্প চামড়া মজুদ করতে হচ্ছে। এতে আরও সমস্যায় আছি আমরা। এখন সরকারের সহযোগিতা হিসেবে ভূমি ও নগদ অর্থ ঋণ পেলে পূনরায় ব্যবসায় ঘুরে দাড়াতে পারবো। এ বিষয়ে ৩৯ নং বাঘিয়া মৌজার পালং-বাঘিয়া সীমানার জেলা পরিষদের খাল সংলগ্নে অবস্থিত ১নং খতিয়ানের এস এ ও আরএস নং দাগ ৯২০ এবং বিআরএস দাগ নং ১৩৩৭ জমি বরাদ্দ ও বন্দোবস্ত চেয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনার্থে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করি।

মনোরঞ্জণ ঋষী বলেন, সরকারের তরফ থেকে মূল্য বেঁধে দেয়া হলেও কোরবানি পশুর চামড়ার দাম নিয়ে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। রাজধানীতে ২৫ থেকে ৩০ ফুট আকারের একেকটি বড় গরুর চামড়া মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেশ থেকে একই দামে কিনতে হচ্ছে। এ নিয়ে চামড়া সংগ্রহকারী মৌসুমি ব্যবসায়ী, ফড়িয়া এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বলা যায়, সিন্ডিকেটের হাতেই ছিল চামড়ার বাজারের নিয়ন্ত্রণ। তিনি আরও বলেন, ‘বড় বড় চামড়া ৮০০ টাকার বেশি বলা হচ্ছে না। সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দেয়া হয়েছে।’ তাছাড়া চামড়া প্রক্রিয়াকরণে প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেশি, তাই বেশি দামে চামড়া কেনা যাচ্ছে না। এছাড়া বছরে ঘর ভাড়া ও চাঁদাবাজদের চাদা দিয়ে লাভ নিয়ে বিপাকে চামড়া ব্যবসায়ীগণ।

মন্টু দাস ঋষি বলেন, চামড়া শিল্পের ব্যবসা করে আমরা এখন আর লাভবান নই। বাপদাদার ব্যবসা বলে এখনো করছি। ব্যবসায় মার খেয়েও লাভ পুষিয়ে নিতে ব্যবসাটি চালিয়ে যাচ্ছি। অর্থ ঋণ ও সরকারি জমি দিয়ে সরকার সহযোগিতা করলে লাভের মুখ দেখবো বলে আমার আশা।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান আপাতত কিছু বলতে পারছেন না।

Facebook Comments Box