শুক্রবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, ২২শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে ট্রাফিক সপ্তাহের নবম দিনে মামলা ২৮৩০, জব্দ ২০৩

শরীয়তপুরে ট্রাফিক সপ্তাহের নবম দিনে মামলা ২৮৩০, জব্দ ২০৩

সারা দেশের ন্যায় শরীয়তপুরে ট্রাফিক সপ্তাহ পালিত হয়েছে। ৫ আগস্ট থেকে এ ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হয়েছে। এ ট্রাফিক সপ্তাহ ১১ আগষ্ট শনিবার পর্যন্ত বলবৎ ছিল। আর এ ট্রাফিক সপ্তাহের কারণে শরীয়তপুরে অধিকংশ যানবাহন চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মামলার ভয়ে বিআরটিএ অফিসেও ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যানবাহন রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রতিদিন ভীড় জমাচ্ছে যানবাহনের ড্রাইভিং চালক ও মালিকরা।
জানা যায়, রাস্তায় চলমান ত্রুটিযুক্ত যানবাহনের উপর ট্রাফিক আইনে বিদ্যমান বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী রুট পারমিট, ফিটনেসবিহীন, ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন, ভূয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালকের বিরুদ্ধে ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় জেলা পুলিশ বিভাগ শরীয়তপুরের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেক পোষ্ট বসিয়েছে। আর এ কাজে ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ও সাংবাদিকসহ সাধারণ সচেতন জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে সহযোগিতা করেছে।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিশেষ শাখার ডিআইও-২ মোঃ আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হয়েছে। আর এ ট্রাফিক সপ্তাহের নবম দিন পর্যন্ত জেলায় বিভিন্ন রুটে চলমান ২ হাজার ৮৩০ টি গাড়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং মটর সাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনসহ ২০৩ টি গাড়ী আটক করা হয়েছে।
ট্রাফিক সার্জেন্ট মেহেদী হাসানের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত ট্রাফিক সপ্তাহ অত্যন্ত সুন্দর ভাবে পালন করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী রুট পারমিট, ফিটনেসবিহীন, ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন, ভূয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালকের বিরুদ্ধে ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ কাজটি যদি আমরা সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে পারি তাহলে গাড়ির চালকরা সচেতন হবে। জেলার সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে।
ট্রাফিক সপ্তাহের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করতে গিয়ে ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র জেলা দূর্ঘটনা অনুসন্ধান ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট থেকে এ ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হয়ে ১৩ আগষ্ট সোমবার পর্যন্ত চলছে। আর এ ট্রাফিক সপ্তাহে ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাস্তায় চলমান ত্রুটিযুক্ত যানবাহনের উপর ট্রাফিক আইনে বিদ্যমান বিভিন্ন ধারায় রুট পারমিট, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালক, ভূয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। যার কারনে ২৮৩০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়েছে এবং ২০৩ টি যানবাহন আটক করতে সক্ষম হয়েছে। ট্রাফিক সপ্তাহের এ ধারা ত্রুটিযুক্ত যানবাহনে চলমান থাকলে এক সময় সকল যানবাহনের মালিক এবং ড্রাইভার সচেতন হবে। এর ফলে দূর্ঘটনা হ্রাস পাবে। এ ট্রাফিক সপ্তাহ প্রকৃতভাবে আমরা সফল করতে পারবো, সকল সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতার মাধ্যমে। তবে আইনের প্রতি প্রশাসন, চালক, যানবাহন মালিকগণ ও সাধারণ জনগণ পরিপূর্ণ শ্রদ্ধাশীল হলে পুরোপুরি এটা বাস্তবায়ন সম্ভব।


error: Content is protected !!