শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে দুই মাটি ব্যবসায়ীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে দুটি ভেকু মেশিনের মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা ইউনিয়নের নুরুল হক সরদারের ছেলে মো. সুমন (৪৫) এবং একই এলাকার আলিম উদ্দিন দর্জির ছেলে মো. সুজন দর্জি (৩৩)।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ডিএমখালি ইউনিয়নের চর হোগলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক হাফিজুল হক। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে. এম. রাফসান রাব্বি, সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিম উদ্দীন, থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সখিপুর থানার ডিএমখালি চর হোগলা গ্রামে রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে ফসলি জমির মাটি কেটে শতাধিক ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছিল। এতে একদিকে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছিল, অন্যদিকে সরকারি সড়ক ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। মাটি পরিবহনের সময় কাদা পড়ে সড়ক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছিল।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে দুই মাটি ব্যবসায়ীকে আটক করে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক বলেন, “কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কাটার ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। কৃষি জমি ধ্বংস করে পুকুর খনন বা মাটি বিক্রির কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

Facebook Comments Box