শরীয়তপুর জেলায় গত কয়েকদিন ধরে চলমান তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কুয়াশার কারণে শরীয়তপুর–চাঁদপুর নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ঘাটে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) জেলাজুড়ে তীব্র শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা পরিলক্ষিত হয়। দিনের দীর্ঘ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় ফেরি চলাচল দফায় দফায় বন্ধ থাকছে। এতে অ্যাম্বুলেন্সসহ কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী যানবাহন ঘাটে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে থাকছে।

তীব্র ঠান্ডার প্রভাবে জেলায় শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভিড় বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। বছরের শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও তীব্র শীতের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। শ্রমজীবী মানুষরা জানিয়েছেন, ঠান্ডার কারণে কাজে বের হতে না পারায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এদিকে শীত মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে বড় ধরনের কোনো ত্রাণ তৎপরতার খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box