পদ্মা ও মেঘনা নদীর উর্বর পলি ও দোআঁশ মাটিতে এ বছর শরীয়তপুর জেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার চরাঞ্চলে চাষীরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৩৫২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৫২ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। জেলায় বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৯ হাজার ৭৭২ টন, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬১ হাজার ৫১ টন। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই জেলা দেশের বিশাল অংশের পেঁয়াজের যোগান দিতে পারবে।

ইতিমধ্যেই আগাম জাতের ‘মুড়ি কাটা’ পেঁয়াজ বাজারে আসায় দামও কমতে শুরু করেছে। শরীয়তপুরের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তবারক আলীর মতো অনেক কৃষক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন জানান, “মাটি ও আবহাওয়ার গুণগুণ পেঁয়াজ চাষের অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। আমরা একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ দেখছি, তেমনি কৃষকরা যাতে লোকসানে না পড়েন সেদিকেও নজর রাখছি।”

Facebook Comments Box