প্রচার-প্রচারণা শেষ। জাতির প্রতিক্ষিত ভোট ৩০ ডিসেম্বর রবিবার। তাই সারা দেশের মতো নির্বাচনের দিকে দৃষ্টি শরীয়তপুরবাসীরও। নির্বাচন ঘিরে বৃহস্পতিবার শেষ দিন প্রচারণায় সরগরম ছিলো শরীয়তপুর। শহর থেকে গ্রামের চায়ের দোকানেও ঝড় তুলেছে একাদশ জাতীয়সংসদ নির্বাচন। নবীন, প্রবীন, তরুণসহ সব বয়সের মানুষের মুখে মুখে এখন নির্বাচনের চর্চা। চারদিকে আলাপ-আলোচনায় উৎসবমূখর হয়ে উঠেছে শরীয়তপুরের জনপথ।
এবার নির্বাচনে শরীয়তপুরের তিনটি আসনে লড়বে ১৮ জন প্রার্থী। তাই নির্বাচন নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি। তবে কে কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে মনস্থিরের চিন্তায় ভোটাররা। মেলাচ্ছেন হিসাব-নিকাশ। তবে ভোটারা বলছে, যে সরকার এলাকার শান্তি ও উন্নয়নের জন্য ভূমিকা রাখবে তাকেই ভোট দেবেন তারা।
শরীয়তপুরে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন ভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে ৯শ’ পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন। শুক্রবার তিনি রুদ্রবার্তাকে জানান, উৎসবমূখর পরিবেশে ভোটাররা যাতে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে সেজন্য জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
এবছর শরীয়তপুর ৩টি আসনে ৩৫০টি কেন্দ্র দেয়া হয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৬১ হাজার ৬’শ ৫৭ ভোট। এর মধ্যে শরীয়তপুর-১ (পালং ও জাজিরায়) ভোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ১৯ জন। কেন্দ্র সংখা ১১৮টি। শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া ও সখিপুর) মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার ৩৪৩ জন। কেন্দ্র সংখ্যা ১৩২টি। শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্য. গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জ) ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৫ জন। কেন্দ্র সংখ্যা ১০০টি।
পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ন করতে পুলিশের ৯’শ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে কাজ করবে। এ জন্য ফোর্স অফিসারদের প্রয়োজনীয় ব্রিফিং করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার সকল কেন্দ্রগুলো নির্বাচনী সরঞ্জাম নেয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি শরীয়তপুরবাসীকে একটি শান্তিপূর্ন সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।
অন্যদিকে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা। জেলার কেন্দ্রেগুলোতে পাঠানো হয়েছে নিবার্চনীয় সরঞ্জাম ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মোতায়ন করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীও। সম্ভাব্য সব সহিংসতা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত প্রশাসন। একই সাথে প্রস্তুত শরীয়তপুর বাসীও তাদের পছন্দের সম্ভাব্য সংসদ সদস্যকে বেছেনিতে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী আবু তাহের জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে শরীয়তপুরের ভোট কেন্দ্র গুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। মোতায়ন করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আশা করি ৩০ ডিসেম্বর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন শরীয়তপুরবাসীকে উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন