শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় দেওয়াল নির্মাণ করে অন্যের জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি উপজেলার দাসেরজঙ্গল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কাদের খলিফা।
ভূক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোসাইরহাট উপজেলার দাসেরজঙ্গল গ্রামের মৃত কালাই খলিফার ছেলে আব্দুর রব খলিফা ও কাদের খলিফার নামে দাসেরজঙ্গল মৌজার বি.আর.এস. ৫৯৪ (বাগান), ৬১৯ (বাড়ি) ও ৬২০ (পুকুর) নং দাগের ৫৬ শতাংশ জমি রয়েছে। প্রতিবেশী হোসেন রাড়ীর মা মরন নেছা বেগম পাশবর্তী ২০ শাতাংশ জমি ডামুড্যা উপজেলার আদাসন গ্রামের আদাসন হুজুর নামে পরিচিত মৃত আজিজ নূরীর কাছে হস্তান্তর করেন। আজিজ নূরী মারা যাওয়ার পর তার কতিপয় ওয়ারিশ নজর আলী মোল্যাগংদের কাছে ওই জমির কিছু অংশ বিক্রি করে। কিন্তু নজর আলী মোল্যা গংরা পুরো জমি ভোগ দখল করে আসছে।
সম্প্রতি আজিজ নূরীর ওয়ারিশদের মধ্যে জমি বিক্রি না করা মোদাচ্ছের ও আল আমিন তাদের অংশ বুঝে পেতে নজর আলী মোল্যার কাছে আসে। নজর আলী মোল্যা গংরা আল আমিন ও মোদাচ্ছেরকে জমি বুঝিয়ে দিতে আব্দুর রব খলিফা ও কাদের খলিফাদের জমির মধ্য দিয়ে জোরপূর্বক দেয়াল নির্মাণ করে তাদের দখলে নিয়েছে।
কাদের খলিফা বলেন, এটা আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি। আমরা ১১০ বছর যাবৎ এ জমি ভোগ করে আসছি। সম্প্রতি নজর আলী মোল্যা ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার বাদল বেপারী পুলিশ এনে আমাদের জমির মধ্য দিয়ে দেওয়াল নির্মাণ করে আজিজ নূরীর নাতি আল আমিন ও মোদাচ্ছেরকে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ আমাদের কোন সহযোগিতা করেনি। রাজিব দারোগা উল্টো আমাদের ভয়ভীতি দেখায়।
কাদের খলিফার স্ত্রী শাহানারা ও আবুল হাসেম খলিফার স্ত্রী মাকসুদা বলেন, রাজিব দারোগার উপস্থিতিতে তারা আমাদের জমির দখলে নেয়। জমি মাপার জন্য আমরা আমিন আনলে তারা আমিনকে জমি না মাপার জন্য ভয়ভীতি দেখালে আমিন চলে যায়।
এ বিষয়ে নজর আলী মোল্যা বলেন, বি.আর.এস নকশা ও পর্চা এখনও ফাইনাল হয়নি। তাই এস.এ নকশা ও পর্চা অনুযায়ী জমি মেপে দেয়াল নির্মাণ করেছি। বি.আর.এস পর্চা ও নকশা ফাইনাল হলে সে অনুযায়ী পুনরায় মাপা হবে।
এ বিষয়ে গোসাইরহাট থানার এসআই রাজিব এর কাছে জানতে চাই তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হনননি।
এ বিষয়টি পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। যদি কারো অভিযোগ থাকে তাহলে আমার কাছে আসতে বলেন, আমি বিষয়টি দেখবো।

Facebook Comments Box