করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের সরকারি নির্দেশনায় এক মাস ধরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বন্দর ভোজেশ্বর নৌবন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ। ফলে বেকার হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার শ্রমিক।
পরিবার-পরিজন নিয়ে শ্রমিকরা অর্ধাহারে-অনাহারে নানা দুর্দশায় দিন পাড় করছেন। এদিকে জরুরি পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ, ট্রলার ভোজেশ্বর নৌবন্দরে আসা-যাওয়ার নির্দেশ থাকলেও দু-একটি কার্গো জাহাজ ছাড়া অধিকাংশ কার্গো ও ট্রলার বন্দরে ভিড়ছে না।
যে কারণে আগামী মৌসুমে সারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য সংকটের শঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। শরীয়তপুরের নড়িয়ার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের চাহিদা পূরণের বাজার ভোজেশ্বর বাজারের একমাত্র এই নৌবন্দরে এক মাস ধরে কাচামাল ছাড়া ভিড়ছে না সার, বীজসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যবাহী কোনো কার্গো জাহাজ ও ট্রলার। যে কারণে বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই পড়েছেন অর্থনৈতিক সংকটে।
জমানো অর্থও ফুরিয়ে যাওয়ায় এখন দিশেহারা বন্দরের শ্রমিকসহ বন্দর সম্পৃক্ত অন্য পেশাজীবীরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, এই আপৎকালীন শ্রমজীবী মানুষের সরকারি খাদ্য সহায়তা এলেও তাদের জন্য মেলেনি কোনো বরাদ্দ। এ সংকটময় মুহূর্তে শ্রমজীবী মানুষের প্রয়োজন সরকারি খাদ্য সহায়তা।
স্থানীয় ভোজেশ্বর বন্দর শ্রমিক ও ইজারাদারদের ভাষ্য, নৌবন্দরটি দ্রুত সচল না হলে গোটা ভোজেশ্বর বাজার স্থবির হয়ে যাবে। তারা দাবি করেন, এ সংকটকালে বন্দরের শ্রমিকদের জন্য সরকারি সহযোগিতা এখন খুবই জরুরি।
তারা কোন সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছে না।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রুপা রায় জানান, নৌবন্দরে পণ্যবাহী কোন পরিবহণ ও নৌযানে নিষেধাজ্ঞা নেই। এটি সব সময় সচল রাখতে হবে। তবে যেসব বন্দরের নৌযান ও পরিবহণের শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে, উক্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকা জমা নিতে বলেছি অথবা কেউ যদি সরাসরি আমাদের নলেজে দেয়, আমরা তার সহযোগিতার জন্য ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য করুন