বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং

শরীয়তপুর জমি দখলে বাঁধা দেয়ায় বৃদ্ধসহ ৩ জন জখম করার অভিযোগ

শরীয়তপুর জমি দখলে বাঁধা দেয়ায় বৃদ্ধসহ ৩ জন জখম করার অভিযোগ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাষানচর এলাকায় জমি দখলে বাঁধা দেয়ায় ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধসহ তিন জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে এলাকার প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় এই ঘটনায় আহত ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ হাজী মো. ইউসুব খান তার ছেলে সেকান্দার খান ও মেয়ে ফিরোজা বেগমদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা পরবর্তী আঙ্গারিয়া ফাড়ির পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে। আহত পরিবারের পক্ষ থেকে পালং থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন আঙ্গারিয়া ফাড়ির পুলিশ পরিদর্শক মিন্টু মন্ডল।
হাসপাতালের বেড থেকে ভিকটিম হাজী মো. ইউসুব খান, সেকান্দার খান ও ফিরোজা বেগম জানায়, তাদের বাড়ি ও বাড়ির পাশের জমি দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী শাহাবুদ্দিন, আনিসিদ্দিন ঢালি, হামেদ ঢালি, আবুসিদ্দি ঢালী, ছত্তর ঢালি লোকজন নিয়ে বেড়া দিতে আসে। তাদের জমি দখল করে বেড়া দিতে দেখে বাঁধা প্রদান করেন বৃদ্ধ ইসুব খান। তখন প্রভাবশালী মহলটি বৃদ্ধ ইউসুব খানকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে মাটিতে ফেলে দেয়। ইউসুব খানকে বাঁচাতে তার ছেলে সেকান্দার ও মেয়ে ফিরোজা আগাইয়া গেলে তাদেরও মারপিট করা হয়।
আহত বৃদ্ধ ইউসুব খানের পুত্রবধু প্রত্যক্ষদর্শী খালেদা বলেন, আমার শ্বশুর পরিবার একটি নিরিহ পরিবার। তারা কারোর সাথে ঝগড়ায় জড়ায় না। ঘটনারদিন স্থানীয় প্রভাবশারী শাহাবুদ্দিন, আনিসিদ্দিন ঢালি, হামেদ ঢালি, আবুসিদ্দি ঢালী, ছত্তর ঢালি লোকজন নিয়ে আমার শ্বশুর বাড়ি ও বাড়ির পাশের ফসলি জমি দখল করে বেড়া দিতে চেষ্টা করে। আমার শ্বশুর বেড়া দিতে বাধা দেয়ায় প্রভাবশালী মহলটি আমার সম্মুখেই আমার শ্বশুর, স্বামী ও ননদকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
আহত ফিরোজা বেগমের ছেলে মাহাবুব বলেন, ঢালী পরিবারের দুই সদস্য সেনাবাহিনীতে ও গোয়েন্দা সংস্থায় চাকরি করে। সেই দাপটে কারনে অকারনে আমার নানা ও তার পরিবারের লোকজনকে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে শাহাবুদ্দিন, আনিসিদ্দিন ঢালি, হামেদ ঢালি, আবুসিদ্দি ঢালী, ছত্তর ঢালি লোকজন নিয়ে মারপিট করত। এবার আমার নানার জমি জোর করে প্রভাবশালী মহলটি দখল করতে আসে। নানা বাধা দেয়ায় তাকে মারধর করে। নানাকে রক্ষা করতে আমার মা ও নানা সেখানে যায়। তখন আমার মা ও মামাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তারা। আমি পালং থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন বলেন, আমরা যেখানে বেড়া দিয়েছি তা এখনও রয়েছে। আপনারা এসে দেখে যাবেন আমরা কার জমিতে বেড়া দিয়েছি। বেড়া দিতে যাওয়ার পর ইউসুব খান তার নাতি ও মেয়েদের লেলিয়ে দিয়ে আমার ছোট দুই ভাইকে মারপিট করে। সংবাদ পেয়ে আমিও ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ঝগড়া থামিয়ে দেই। আমাদের কোন অপরাধ থাকলে বিচার মাথা পেতে নিব। তাছাড়া আমার ভাই সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার পদে চাকরিতে আছে। সে এই বিষয়ে কিছুই জানে না। আমাদের ও আমার সেনাবাহিনী ভাইকে ফাসাতে ইউসুব খানের পরিবার মিথ্যা রটাচ্ছে। আমরা নিরাপদ থাকতে থানায় সাধারণ ডাইরী করেছি।
আঙ্গারিয়া পুলিশ ফাড়ির উপ-সহকারি পরিদর্শক মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, পালং মডেল থানা থেকে বিষয়টি অবগত করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি উভয় পক্ষ জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। উভয় পক্ষেই ছোটখাট জখমও হয়েছে। পরে উভয় পক্ষকে নিয়ন্ত্রন করে লোকজন সরিয়ে দেই এবং জখমিদের চিকিৎসা দিতে বলি।
আঙ্গারিয়া ফাড়ির পুলিশ পরিদর্শক মিন্টু মন্ডল বলেন, বাদির লিখিত অভিযোগ পালং মডেল থানা থেকে তদন্তের জন্য আঙ্গারিয়া ফাড়িতে প্রেরণ করেছেন। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থ গ্রহন করা হবে।


error: Content is protected !!