১৩ নভেম্বর ২০২৫, ঢাকা: ভারতের শীর্ষ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান টাটা গ্রুপের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক শিল্পে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় সংগঠন ‘সালাম’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাটা গ্রুপের বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (টিএএসএল) দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে কাজ করছে। যৌথভাবে তারা বারাক‑৮ ক্ষেপণাস্ত্রের মূল উপাদান তৈরি করেছে, যা ইসরাইলের নৌ প্রতিরক্ষার অন্যতম ভিত্তি এবং গাজায় সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। একইভাবে, এ প্রতিষ্ঠান এফ‑১৬ যুদ্ধবিমান ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের কাঠামো উৎপাদনেও যুক্ত।
অভিযোগ রয়েছে, টাটার সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার (জেএলআর) ইসরাইলি বাহিনীর ব্যবহৃত হালকা সাঁজোয়া যান ‘এমডিটি ডেভিড’-এর জন্য চ্যাসিস সরবরাহ করেছে। অন্যদিকে, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) ইসরাইলের সরকারি ও আর্থিক খাতের জন্য ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরিতে কাজ করছে, যার মধ্যে বিতর্কিত প্রোজেক্ট ‘নিম্বাস’ও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব কার্যক্রম বিচ্ছিন্ন নয়; বরং ভারতীয় পুঁজির মাধ্যমে ইসরাইলের দখলদারি অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার একটি কাঠামোগত অংশ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি যদি জেনেশুনে যুদ্ধাপরাধে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বা সেবা সরবরাহ করে, তবে তাদের কার্যক্রমও সেই অপরাধে জড়িত হতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, টাটার এই সম্পৃক্ততা স্বাধীন তদন্তের দাবি রাখে। বিনিয়োগকারী, ট্রেড ইউনিয়ন ও ভোক্তাদেরও স্বচ্ছতা দাবি করার অধিকার রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে একই ধরনের নৈতিক চাপ প্রয়োজন।
টাটা গ্রুপ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সমালোচকরা মনে করেন, জনকল্যাণমূলক বিজ্ঞাপন প্রচারের আড়ালে কর্পোরেট নীরবতা ভারতের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

মন্তব্য করুন