রাজশাহীর তাহেরপুর হাটে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও মসলা জাতীয় কৃষিপণ্য পাইকারি দামে কিনতে যাচ্ছিলেন তাঁরা। ইচ্ছা ছিল হাটের কেনাকাটা শেষ করে দ্রুতই ফিরবেন নিজ এলাকায়, যোগান দেবেন স্থানীয় বাজারের পাইকারি চাহিদার। কিন্তু সেই আশার সলিল সমাধি ঘটলো নাটোরের মহাসড়কে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিভে গেল শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ উদীয়মান ব্যবসায়ীর প্রাণপ্রদীপ।
নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার সরকারপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটে এই ভয়াবহ প্রাণহানি। এতে বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। পুরো দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বহু যাত্রী।
নিহত জাজিরার পাঁচ ব্যবসায়ীর পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র। তাঁরা হলেন-
জুয়েল মাদবর (৩৫): রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি গ্রামের জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে। তিনি ভুসামাল এবং রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন।
সালাল মোল্যা (৩৮): ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে। তিনি কৃষিপণ্য কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সোহাগ শিকদার (৩২): ডুবিসায়বর কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস শিকদারের ছেলে।
সামাদ ফকির (৪৫): কাজিরহাট এলাকার স্থানীয় ভুসামাল ব্যবসায়ী।
শাহিন বেপারী (৩০): পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া গ্রামের রাজ্জাক বেপারীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলুদের ব্যবসা করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের সবাই দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার কাজিরহাট ও আশপাশের বাজারে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছিলেন। একই অঞ্চলের ব্যবসায়ী হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ছিল গভীর পেশাগত সুসম্পর্ক ও ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব। যৌথভাবে ব্যবসায়িক মালামাল কিনতে প্রায়ই তাঁরা দেশের বিভিন্ন বাজারে যেতেন।
কাজিরহাটের ব্যবসায়ী দিদার সরদার আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “ব্যবসার কারণে প্রতিদিন তাঁদের সঙ্গে ওঠাবসা ছিল। সবাই অত্যন্ত পরিশ্রমী ও ভালো মনের মানুষ ছিলেন। এক নিমেষে পাঁচজন সহকর্মীকে এভাবে হারিয়ে ফেলব—তা কখনো কল্পনাও করিনি।”
এদিকে মঙ্গলবার ভোরে দুর্ঘটনার খবর জাজিরায় পৌঁছালে স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের নীরবতা।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহম্মেদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁরা দুর্ঘটনার খবরটি পেয়েছেন। তবে নাটোর জেলা পুলিশ বা স্থানীয় হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক বার্তা পৌঁছায়নি। মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন