ক্ষমতায় আসার আট মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে পদ ছাড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছে একাত্তর। এর পাশাপাশি পদত্যাগ করেছেন দলের একজন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যও।

ঘটনার সর্বশেষ শিকার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর সূত্রপাত গত শনিবার, যখন রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সহযোগীদের নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক।

ওই ঘটনার ভিডিও তিনি নিজের ফেসবুকে প্রচার করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে অসন্তোষ তৈরি করে। বিতর্কের মুখে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। পদত্যাগের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কাজ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে; আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।

ইশরাক হোসেনের আগে মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়াতে হয় আরও দুই মন্ত্রীকে। দায়িত্ব নেওয়ার সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রশাসনিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্যের জেরেই তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল।

এরপর গত ২২ আগস্ট পদ ছাড়তে হয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে। ওই পদে আন্দালিব রহমান পার্থকে স্থলাভিষিক্ত করা হয় এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে স্থানান্তর করা হয়।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সংসদ সদস্য পদ হারিয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। রাজধানীর মিরপুরে ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ অনভিপ্রেত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গত ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে সংসদ সচিবালয় থেকে তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

—